
একদিন পর নগরের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম মাঠে শুরু হচ্ছে চসিকের আয়োজনে একুশে বইমেলা। এবারের বইমেলায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার সৃজনশীল ১০৮টি প্রকাশনা সংস্থার অংশগ্রহণে ১৪০টি স্টল রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ৩২টি ডাবল ও ৭৬টি সিঙ্গেল স্টল। ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা ও ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বইমেলা।
সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম মোবাইল ও মাদকের যে সমস্যায় ভুগছে তা থেকে মুক্তি দিতে পারে বই। বই মুক্তি দেয়, যুক্তি শেখায়। বইমেলা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ তুলে ধরতে সহায়তা করবে এই আমার আশা। এ কারণে চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে এ বইমেলার সার্বিক কার্যক্রমে আমি সংযুক্ত থেকে গর্বিত। মেলার দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে প্রচুর অর্থ ব্যয়ে ধুলোবালিমুক্ত পরিবেশে চলাচল নিশ্চিত করতে মেলা প্রাঙ্গণে ত্রিপল এবং ইট বিছানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, নিশ্চিত করা হয়েছে নিরাপদ পরিবেশ।
মেয়র জানান, এবারের মেলার অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে নজরুল দিবস, মাতৃভাষা দিবস, লোক উৎসব, রবীন্দ্র উৎসব, তারুণ্য উৎসব, নারী উৎসব, বসন্ত উৎসব, মরমী উৎসব, আবৃত্তি উৎসব, নৃগোষ্ঠী উৎসব, লেখক সমাবেশ, যুব উৎসব, শিশু উৎসব, পেশাজীবী সমাবেশ, মুক্তিযুদ্ধ উৎসব, ছড়া উৎসব, কুইজ প্রতিযোগিতা, চাটগাঁ উৎসব, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বইমেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু কর্ণার। লেখক আড্ডাসহ নারী কর্ণার এবং ওয়াইফাই জোন। এছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো মেলা প্রাঙ্গন সিসিটিভি নেটওর্য়াকের আওতাভুক্ত থাকবে। কার্যালয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকবে । মেলা মঞ্চে প্রতিদিনই নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় প্রতিদিনের আলোচনা সভায় বাঙালির সাহিত্য-ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ নানান বিচিত্র বিষয়ের সমাহার ঘটানো হয়েছে ।
এবারের বইমেলায় নতুন বইয়ের মোড়ক উম্মোচন, মঞ্চ ও সেলফি কর্নার। এছাড়াও ৫২’র ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে। মেলা পরিষদের কক্ষ, সুপরিসর মিডিয়া সেন্টার, হেলথ কর্নার, ফায়ার সার্ভিস, অভ্যর্থনা কক্ষ, টিভি বুথ, এটিএম ব্যাংকের বুথ, সার্বক্ষণিক সেবা ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের সার্ভিস বুথ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— একুশে বইমেলা কমিটির আহবায়ক ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, মেলা কমিটি সদস্য সচিব লুৎফুন নাহার, চসিক শিক্ষা কর্মকর্তা উজালা রানী চাকমা, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেব দুলাল ভৌমিক, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মাকসুদ আহমেদ, শাহ আলম নিপু, আলী প্রয়াস, শুকলাল দাশ,শামসুদ্দিন হারুন, আইয়ুব সৈয়দ, আজাদ বুলবুল, কামরুল হাসান বাদ, আশেক রসুল চৌধুরী টিপু প্রমুখ।