ময়মনসিংহের মানবতাবিরোধী অপরাধের মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার।

শেয়ার করুন :

মোঃ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি।।

ময়মনসিংহে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামী মোঃ সুলতান মাহমুদ ফকির’কে ময়মনসিংহ শহরের ভাটিকাশর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ময়মনসিংহের র‌্যাব-১৪।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টায় র‌্যাব-১৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ময়মনসিংহ শহরের ভাটিকাশর এলাকা হতে সুলতান মাহমুদ ফকিরকে (৭০) গ্রেফতার করে। সে জেলার ত্রিশাল উপজেলার বিয়ারতা এলাকার  মৃত আসমত আলী ফকিরের ছেলে।

ময়মনসিংহ র‌্যাব ১৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

তিনি আরো জানান,  ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধা সময় ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাকচর গ্রামের ইউনুছ আলী নামক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নদী পারাপারে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা জুন-জুলাইয়ের দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালের আহমেদাবাদে একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। মুক্তিযোদ্ধাদের নদী পারাপারে সহযোগিতার কারণে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা বীর মুক্তিযুদ্ধা ইউনুছ আলীকে রাজাকারদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায় এবং রাজাকার ক্যাম্পের টর্চার সেলে নির্যাতনের পর ১৫ আগস্ট সকালে তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। উক্ত ঘটনায় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ইউনুস আলীর ছেলে ২০১৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের বিচারিক আদালতে সুলতান মাহমুদ ফকিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত বিচারিক কার্যক্রমের জন্য মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা নং-০৭/২০১৮ রুজু হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে বর্ণিত অভিযোগের তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থা সুলতান মাহমুদ ফকিরসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে বিজ্ঞ আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত মামলায় আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার অভিযুক্ত তিনজন আসামী রায়ের পূর্বে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করে এবং গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে সুলতান মাহমুদ ফকিরসহ ৬ জনকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদান করেন।

১৯৭১ সালে ত্রিশালের কানিহারি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ হামনকে হত্যার দায়ে অন্যান্য আসামীদের সাথে উক্ত আসামীকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও ১৯৭১সালে  বিয়ারতা গ্রামের নিয়ামত আলী (বর্তমানে মৃত), আজিজুর রহমান, আব্দুল মতিন’ কে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের দায়ে ৭ বছরের কারাদন্ড এবং  কুষ্টিয়া গ্রামের প্রথমখন্ড ও কালী বাজার এলাকায় ৪ সংখ্যালঘু পরিবারের উপর ধর্ষণ ও অমানবিক নির্যাতনে সরাসরি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের দায়ে সুলতান মাহমুদ ফকিরকে পৃথক পৃথকভাবে আরো ১৪ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। বর্ণিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। সেই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ নগরীর ভাটিকাশর এলাকা থেকে সুলতান মাহমুদ ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়। ময়মনসিংহ র‌্যাব ১৪ এর  অধিনায়ক মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *