চট্টগ্রামে নিত‍্যপন‍্যের বাজারে অস্হিরতা।

শেয়ার করুন :

চট্টগ্রাম থেকে এমএস মনির।।

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার মৌসুমী বেগম। চট্টগ্রামের কেডিএস ফ‍্যাশনের অপারেটর হিসাবে চাকরি করে গত তিন বছর ধরে। শুরুতে আট হাজার টাকা বেতনের চাকরি শুরু করলেও তখন সব খরচ করে বাড়িতে তার মা বাবার জন‍্য প্রতিমাসে কিছু টাকা পাঠাতে পারত। এখন বেতন সহ সর্বসাকুল‍্যে ১৫ হাজার টাকা মাসিক ইনকাম হলেও বাড়িতে কোন টাকাই পাঠাতে পারেনা। এর প্রধান সবকিছুর মূল‍্য বৃদ্ধি। ঘর ভাড়া ও বেড়েছে আগের থেকে। এমনকি এক মুটো শাক যা আগে দশ টাকা দিয়ে পাওয়া যেথ এখন সেই শাক বিশ টাকার নিচে পাওয়া যায় না।
একই ভাবে হতাশা প্রকাশ করল ইপিজেড এ চাকরি করা রংপুরের ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান দূব‍্যমূল‍্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সকল পর্যায়ের গাড়িভাড়া বৃদ্ধির কারনে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। এখন চাকরি করে কোন মতে খেয়ে পড়ে দিন পার করতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামের অধিকাংশ বাজারে এলাকাভিক্তিক সিন্ডিকেট করে দ্রব‍্যমূল‍্য নিয়ন্ত্রণ করছে অসাধু ব‍্যবসায়ীরা। নগরীর পাইকারি বাজারগুলোতে দাম কম থাকলেও পাইকারি বাজার থেকে পণ্য বের হওয়ার সাথে সাথে চারগুণ মূল‍্য বৃদ্ধি করে দেয় ব‍্যবসায়ীরা।
নগরীর কাজীর দেউরি, রেয়াজুদ্দিন বাজার, চকবাজার, কর্ণফুলী কাচাবাজার, অক্সিজেন কাচাবাজার, আগ্রাবাদ চৌমুহনী বাজার, মোহরা কামাল বাজার,আন্দরকিল্লা কাচাবাজার,পাহাড়তলী,বড়পুল বাজার গুলো পরিদর্শনে দেখা যায় একেক বাজারে পণ‍্যের দামের কোন মিল নেই। দোকানে মূল‍্যতালিকা প্রদর্শন করার কথা থাকলেও প্রায় দোকানদার মৃল‍্য তালিকা রাখেনা।
জেলা প্রশাসন সুত্র জানাই, এসব বাজার গুলোতে ভ্রাম‍্যমান আদালত পরিচালনা করা হয় সবসময়ই। কিন্ত এর সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা। এ বিষয়ে ক‍্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি এম নাজের হোছাইন বলেন, নিত‍্যপণ‍্যের বাজার মূল‍্য এখন ক্রেতাসাধারনের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এক শ্রেণীর ব‍্যবসায়ী পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঝে মাঝে ভ্রাম‍্যমান পরিচালনা করলেও তা প্রতিনিয়ত না করায় অসাধু ব‍্যবসায়ীরা সবসময়ই নিত‍্যপণ‍্য দাম বাড়ানোর সুযোগ পাই।
ব‍্যবসায়ীরা জানাই পরিবহন অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় পণ‍্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *