স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা ডেক্স।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ অভিযুক্ত পাঁচ আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ১৪ এর একটি আভিযানিক দল। এসময় ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটিও উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী হলো, মোঃ বাবু মিয়া (২৩), পিতা- শামসুল হক, সাং- হরিপুর, থানা- ধোবাউড়া, ২। মোঃ রিয়াল মিয়া (২২), পিতা- সাইফুল ইসলাম, সাং- চরমসলন্দ জয়ারচর, থানা- গফরগাঁও, উভয় জেলা- ময়মনসিংহ ৩। মোঃ শামীম (১৯), পিতা- আবুল কাশেম, সাং- কুশিউরা, থানা- দুয়ারাবাজার, জেলা- সুনামগঞ্জ, ৪। আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু মোঃ রাসেল (১৪), পিতা- কামাল হোসেন, সাং- কামালপুর, থানা- পূর্বধলা, জেলা- নেত্রকোনা, ৫। মোঃ নাইম আহমেদ (২৪), পিতা- আবুল কালাম, সাং- মাওনা উত্তরপাড়া, থানা- শ্রীপুুর, জেলা- গাজীপুর।
২৪ অক্টোবর সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ র্যাব ১৪ এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটি জানানো হয়।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, মামলার এজাহার পর্যালোচনা এবং র্যাব কর্তৃক ছায়া তদন্ত এবং গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞসাবাদে জানা যায় যে, ভিকটিম মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (২৬), পেশায় একজন ইজিবাইক চালক।
গত ১৯/১০/২০২২খ্রি. সময় সন্ধ্যা অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম মৃত মোঃ মোফাজ্জল হোসনে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার হবিরবাড়ী আমতলী গ্রামস্থ লাবিব ফ্যাক্টরির সামনে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতেছিল। এমতাবস্থায় গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মোঃ বাবু মিয়া (২৩), ২। মোঃ রিয়াল মিয়া (২২), ৩। মোঃ শামীম (১৯), ৪। আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু মোঃ রাসেল (১৪) যাত্রীবেশে এমসি বাজার হতে জৈনা বাজার যাওয়ার কথা বলে ভিকটিমের ইজিবাইকে উঠে। ভিকটিম সরল মনে তাদেরকে নিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর ভিকটিম কিছু বুঝে উঠার আগেই গ্রেফতারকৃত আসামী রিয়াল এবং আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু মোঃ রাসেল পিছন দিক থেকে ভিকটিমের গলায় গামছা পেছিয়ে দুইজন দুই দিক থেকে টেনে ধরে এবং গ্রেফতারকৃত আসামী শামীম ভিকটিমের হাত চেপে ধরলে গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ বাবু মিয়া ইজিবাইকের স্টেয়ারিং ধরে ইজিবাইক চালাতে থাকে। তারা ভিকটিম মোঃ মোফাজ্জল হোসেন এর গলায় গামছা পেছিয়ে দুই দিক থেকে টেনে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলন্ত ইজিবাইক হতে লাথি মেরে মোফাজ্জলের লাশ মহাসড়কের পাশে ফেলে তার ইজিবাইক, মোবাইলফোন এবং নগদ পাঁচহাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। তারা প্রথমে ইজিবাইকের ব্যাটারি গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ নাইম আহমেদের নিকট ১৯,০০০/- (উনিশ হাজার) টাকায় বিক্রি করে বাবু, রিয়াল এবং শামীম ৬,০০০/- (ছয় হাজার) টাকা করে ভাগ করে নেয় এবং রাসেলকে ২০০/- (দুইশত) টাকা দিয়ে ইজিবাইক বিক্রি করে পরবর্তীতে ভাগ সমন্বয়ের কথা বলে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। র্যাব-১৪, সিপিএসসি এর একটি চৌকস আভিযানিক দল আসামীদের হেফাজত হতে ভিকটিমের ইজিবাইকটি শ্রীপুরের একটি গ্যারেজ হতে ও ইজিবাইকের ৫টি ব্যাটারি নাইমের হেফাজত হতে এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি আসামী বাবু মিয়ার হেফাজত হতে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এব্যাপারে ভিকটিমের পিতা মোঃ দুলাল মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যাহার মামলা নং-৩০, তারিখ-২০/১০/২০২২ ধারা-৩০২/৩৭৯/২০১/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০।
গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার নিমিত্তে সোমবার বিকেলে ভালুকা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।