ভালুকায় প্রতারণার মাধ্যমে মানসিক রোগীর কোটি টাকার জমি রেজিস্ট্রি : উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

শেয়ার করুন :

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা ডেক্স।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ভূয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে স্বাক্ষর নিয়ে এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মানসিক রোগীর প্রায় কোটি টাকা মূল্যের জমি রেজিসিট্র করে নিয়ে উল্টো সাজানো মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ওই পরিবারটির উপর। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাড়াগাঁও চটাংপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় সাবরেজিস্ট্রারসহ সাতজনের নামে আদালতে মামলা ও মিথ্যে মামলার বিষয়ে পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
হয়রানির শিকার ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাড়াগাঁও চটাংপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল্যাহ স্ত্রী  ফুলজান (৮৫), মেয়ে আনোয়ারা (৫৫), মনোয়ারা (৫২) জাহানারা (৪৮) ও পারভীন (৩৫) এবং ছেলে ফজলুল হক ওরফে পাগল ফজলু (৪৬) ও আজিজুল হককে (৪১) রেখে ২০ বছর আগে মারা যান। মারা যাওয়ার সময় তিনি দুই একর ৪৩ শতাংশ জমি রেখে যান এবং প্রত্যেক ভাই হিস্যা মতে সাড়ে ৫১ শতাংশ জমি প্রাপ্ত হন। কিন্তু জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই জমির উপর নজর পরে হবিরবাড়ি গ্রামের মৃত হাশেম সরকারের ছেলে স্থানীয় ভূমি দালাল মুরাদ হোসেন বিপ্লব ও তার সহযোগী রুকুনোজ্জামানের। তারা স্থানীয় ইউনিভার্সেল গার্মেন্টের জমি কেনাবেচার কাজ করে থাকেন। গত ১২ জানুয়ারী/২২ তারিখে ওই দুই ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধার বড় মেয়ে জামাই কামাল হোসেনের সাথে যোগসাজশ করে ভূয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে মানসিক রোগী ফজলুল হক ওরফে পাগল ফজলুর স্বাক্ষর নিয়ে পাড়াগাঁও মৌজায় সিএস ১০২৩ নম্বন দাগে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের এক একর জমি দলিলে ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্য ধরে আসাধূ দলিল লেখক মো: মনিরুল ইসলামের মাধ্যমে (সনদ নম্বর-৬১২০) ভালুকা সাবরেজিস্ট্রারকে দিয়ে কমিশনের মাধ্যমে ওই কোম্পানীর নামে সাবকবলা দলিল (নম্বর-৩৫৪) করে নেন। এতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে ৮২৩১৯৭২৭১৫ এবং জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১০,১১,১৯৮০। প্রকৃতপক্ষে পাগল ফজলুর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ৪২০১৪৭২৪৩০ এবং তার জন্ম তারিখ ০৫,০২,১৯৭৬।
অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধার অপর ছেলে আজিজুল হক জানান, প্রতারনার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে নেয়া দলিলে উল্লেখিত ওই টাকার বিষয়ে আমরা ভাই বোন কেউ অবগত নই। পরবর্তীতে এক মাস ১৭ দিন পর ঘটনাটি জানতে পেরে আমরা ময়মনসিংহ তৃতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দলিল বাতিলের মামলা (নম্বর-৫৬/২২) দায়ের করি। পাগল ভাই ফজলুর স্বাক্ষর নিয়ে ও ভূয়া এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে জমি রেজিস্ট্রির প্রতিবাদে এলাকাবাসি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।
তিনি আরো বলেন, ভূমি দালাল উক্ত মুরাদ হোসেন বিপ্লব গং আমাদেরকে হয়রানী করার জন্য জমি রেজিস্ট্রির দুই মাস পর আমাদের নামে নারী নির্যাতণ ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে ভালুকা মডেল থানায় একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলা (৪০/১১৪, তারিখ-১৮,০৩,২২) দায়ের করান। যদিও মামলায় উল্লেখ করা হয়, দলিল রেজিস্ট্রির পরদিন রাতে আমরা আমার পাগল ভাই ফজলুল হকের স্ত্রীকে ডেকে ঘরের দরজা খুলিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী হোসনে আরাকে জিম্মি করে ওই জমি বিক্রির ৫৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিই এবং তাকে শ্লিলতাহানী করা হয়। কিন্তু ভাই পাগল বলে দুই বছর আগেই স্বেচ্ছায় স্ট্যাম্পে লিখে স্বাক্ষর করে আমার ভাইকে ছেড়ে ওই মহিলা চলে গিয়েছিলেন। অদ্যবদি আমার ভাইকে ছেড়ে চলে যাওয়া ওই মহিলার কোন খোঁজ খবর আমাদের জানা নেই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মুরাদ হোসেন বিপ্লব জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তাকে হয়রানী কারার জন্য একটা পক্ষ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
ভালুকা সাবরেজিস্ট্রার আসমা আক্তার জানান, দলিলটি কমিশনের মাধ্যমে হয়েছে। ওই জমির কাগজপত্র সঠিক ছিলো। তবে তিনি মানসিক রোগী ছিলেন কিনা, তা ওই সময় বোঝা যায়নি।
ভালুকা মডেল থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে। কিছুদিনের মধ্যেই আদালতে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *