হোসেনপুর সরকারি কলেজে প্রভাষক পদে শিল্পি বেগমকে পুনর্বহালের নির্দেশ হাইকোর্টের।

শেয়ার করুন :

জাহাঙ্গীর আলম,হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)।।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর সরকারি কলেজের অনার্স শাখায় হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক পদে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালতের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। রীট আবেদনকারী শিল্পী বেগমের এ সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। জানাযায়,
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ এখতিয়ারাধীন আদালতে (মেইন বিল্ডিং আদালত নম্বর-১৩) দায়ের করা রীট পিটিশন নং ৭১৭০/২০২৬-এর নথি থেকে এসব তথ্য জানাগেছে। রীটটির শুনানি শেষে গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ.এফ.এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের ওই আদেশে বলা হয়, আবেদনকারীর গত ২০২৬ সালের ৪ মে আবেদনটি সংশ্লিষ্ট ৫ নম্বর বিবাদী অধ্যক্ষ ও ৬ নম্বর বিবাদী সভাপতিকে (গভর্নিং বডি) আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতেও নির্দেশনা দেয়া হয়।রীট আবেদকারী
শিল্পী বেগমের দাবি, তিনি ২০১১ সালের ২০ মে অনুষ্ঠিত নিয়োগ নির্বাচনী পরীক্ষায় লিখিত, মৌখিক ও একাডেমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে তিনি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজের অনার্স শাখায় হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে নির্বাচিত হন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০১১ সালের ২১ জুন নিয়োগপত্র পেয়ে ২২ জুন তিনি কলেজে প্রভাষক হিসাব বিজ্ঞান পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর তিনি ওই কলেজের অনার্স শাখায় নিয়মিত কর্মরত ছিলেন। সে সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শাখা অনুমোদনের জন্য একাধিক পরিদর্শন হলে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেন। পরবর্তীতে কলেজটি জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অসহযোগিতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী শুধু শিল্পি বেগমের নিয়োগসংক্রান্ত রেজুলেশন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
শিল্পী বেগমের অভিযোগ, কলেজের গভর্নিং বডির রেজুলেশন খাতায় হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে তিনটি পদের কথা উল্লেখ থাকলেও প্রথম ও দ্বিতীয় ক্রমিকে দুইজনের নাম লিপিবদ্ধ করলেও অসৎ উদ্দেশ্যে তৃতীয় ক্রমিকটিতে শিল্পি বেগমের নাম উল্লেখ না করে ফাঁকা রাখা হয়। ফলে বৈধ নিয়োগ জটিলতায় কলেজটি সরকারি হওয়ার প্রক্রিয়ায় তার নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি ও তার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। তার স্বামী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে পরিবারটি রাজনৈতিক ভাবেও নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। তাই এসব কারণে তার শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কেননা, ওই সময়ে শিল্পি বেগমের স্বামীর বিরুদ্ধে হোসেনপুর থানায় একধিক নাশকতার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হলে তাকে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়। ফলে পরিবারটি চরম আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়
শিল্পী বেগম বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি প্রত্যাশা করেন নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, রেজুলেশন খাতা ও অন্যান্য নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি হোসেনপুর সরকারি কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করতে সমর্থ হবেন।
এ ব্যাপারে হোসেনপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুল বাসেত জানান, আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যাবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না!!