ভালুকায় ৬ষ্ঠ বারের মতো শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক সম্মাননা পেলেন সামিউল ইসলাম

শেয়ার করুন :

স্টাফ রিপোর্টার দিগন্তবার্তা ডটকম।।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ এ ষষ্ঠবারের মতো শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা লাভ করেছেন ময়মনসিংহের ভালুকার হালিমুন্নেছা চৌধুরানী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সামিউল ইসলাম। তাঁর এই অর্জন শিক্ষক সমাজে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ বার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর উদ্ভাবনী শিক্ষাদান পদ্ধতি, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে নিরলস প্রচেষ্টা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

আজ ১৭ এপ্রিল ভালুকা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

সামিউল ইসলাম একজন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ICT4E জেলা অ্যাম্বাসেডর শিক্ষক এবং উপজেলা আইসিটি ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে তাঁর একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, তিনি ২০১৮, ২০১৯, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হন। পাশাপাশি ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বিরল সম্মান লাভ করেছেন।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সামিউল ইসলাম বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এই অর্জনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। শিক্ষক হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর। শৈশব থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে জাতি গঠনে অবদান রাখার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়—শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ করাও অত্যন্ত জরুরি। তাই সহপাঠ কার্যক্রমের ওপর আমি বিশেষ গুরুত্ব দিই। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ—তাদের সুশিক্ষিত করতে পারলেই আমরা একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে পারবো।”

নিজের এই সাফল্যের পেছনে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠান প্রধান আনোয়ারা নীনা আপার দিকনির্দেশনা, উৎসাহ ও আন্তরিক সহযোগিতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমার মা-বাবার দোয়া এবং সহধর্মিণীর অকুণ্ঠ সমর্থন আমাকে এগিয়ে যেতে শক্তি জোগায়।”

তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও ম্যানেজিং কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি আজ উপজেলায় একটি আদর্শ ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এবং বারবার শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি অর্জন করছে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *