মোঃ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ।।
ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার ৭ নং রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের চংপলাশিয়া গ্রামে ৪০ শতক জমি নিয়ে প্রতিবেশীর সাথে বিরোধের কারণে নষ্ট হচ্ছে ৪ একর জমির বোরো ধানের আবাদ। প্রতিপক্ষের বাধায় ধানক্ষেতে সঠিক সময়ে পরিচর্যা, সেচ ও সার দিতে না পারার কারণে ধানক্ষেতে আগাছা জন্মে এবং পানির অভাবে আবাদি জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। সঠিক সময়ে সার দিতে না পারার কারণে ধানক্ষেত হলুদ হয়ে মরতে বসেছে প্রায় ৪ একর জমির বোরো আবাদ।
চংপলাশিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারের রাসেল সরকার (৩০), তফাজ্জল হোসেন (৬৫) , মাহমুদুল্লাহ (৩৩) অভিযোগ করে বলেন, তারা কর্মজীবনের তাগিদে ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে শুধু বৃদ্ধ তফাজ্জল (৬৫), মোবারক হোসেন (৫৫) এবং শিশু মহিলারা থাকেন। প্রতিপক্ষের বাধার কারণে আবাদি জমিতে যেতে পারেন না, কিছুদিন আগে বোরো আবাদ জমিতে সেচ ও সার দিতে দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন মোহাম্মদ আলী ও নার্গিস বেগম।
ভুক্তভোগী পরিবার আরো বলেন, প্রতিবেশী আজিজুল হক (৫৫),সুরুজ আলী (৫০), মিষ্টার মিয়া (৪০), হিলিম মিয়া (৫০), হানিফ মিয়া (৪৫), আশরাফুল ইসলাম (৪৫), এনামুল হক (৪৮) শহিদুল্লাহ (৪৫) গং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে চাঁদা দাবি করে ভুক্তভোগী পরিবারের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বোরো ধানের আবাদি জমিতে সেচ ও সার সময় মতো দিতে না পারায়, ধান ক্ষেত হলুদ হয়ে মরতে বসেছে। এমনকি সরকারি কালভার্ট দিয়ে পানি সেচের রাস্তাটি বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। এমনকি এক হাজার ১৮ ফুট বৈদ্যুতিক তারসহ দুটি সেচের মটর লুটপাট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। বিভিন্ন সময়ে পরিবারের উপর হামলা, প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে প্রতিপক্ষ। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলেও পাওয়া যায়নি কোন প্রতিকার।
এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার রাহাত মিয়া জানান, জমি সংক্রান্ত তাদের পারিবারিক বিষয়ে এর আগেও দরবার করে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। দরবারের বিষয়টি একপক্ষ মানলেও আরেক পক্ষ মানেনি, ফলে বিষয়টি নিয়ে যতটুকু শুনেছি মামলা হয়েছে। আবাদি জমিতে সেচের বিষয়ে মেম্বার বলেন, এখানে দুটি সেচ মটর ছিল কে বা কারা নিয়ে গেছে সঠিক ভাবে কাউকে দোষারোপ করা যাচ্ছে না। কালভার্ট পানি বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, যে বা যারা পানি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করেছেন। এটা অন্যায় করেছেন, আমি পানি ছাড়ার ব্যবস্থা করছি।
অভিযোগের বিষয়ে মিষ্টার মিয়ার কাছে জানতে চাইলে, তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অসহায় ও ভুক্তভোগী পরিবারের রাসেল সরকার ও তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রতিপক্ষরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় বারবার পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও ক্ষয়ক্ষতি চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেন।
এ বিষয়ে ফুলপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, এই বিষয় নিয়ে তিনটি মামলা হয়েছে যা তদন্ত চলমান রয়েছে।