গফরগাঁওয়ে হারানো শিশুকে ফিরে পেলেন প্রতিবন্ধী বাবা

শেয়ার করুন :

 

রফিকুল ইসলাম খান, গফরগাঁও প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের পাগলা থানা’র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের প্রচেষ্টায় হারিয়ে যাওয়া শিশু মুক্তাকিন হাসান লামিমকে (৮) ফিরে পেয়েছে তার প্রতিবন্ধী বাবা। নিখোঁজের একদিন পর শিশু সন্তানকে ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা তার বাবা।
গত শুক্রবার বিকালে গফরগাঁও উপজেলায় পাগলা থানার ক্যাম্পাসে ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান শিশু লামিমকে তার বাবা প্রতিবন্ধী রুবেল মিয়ার হাতে তুলে দেন।
শিশু মুক্তাকিন হাসান লামিম জানায়, সে ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন হতে ট্রেনে করে গফরগাঁও চলে আসে। ট্রেন থেকে নেমে স্টেশন প্লাটফর্মে সে ছোটাছুটি করতে থাকে। তখন অপরিচিত একজন আবার তাকে ঢাকা বিমানবন্দর উদ্দেশ্য ফিরতি ট্রেনে উঠিয়ে দিলে মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনে গাড়ি থামায় আবার সে ষ্টেশনে নেমে কান্নাকাটি করছিলো। এসময় স্থানীয় লোকজন শিশু লামিমকে গ্রাম পুলিশ বিজয় রবিদাসের মাধ্যমে পাগলা থানায় ওসির কাছে পাঠিয়ে দেন।
থানায় আনার পর শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকা দক্ষিণখান থানা আওতাধীন গণকবরস্থান মোড় এলাকায় বাসা বলে জানান শিশু লামিম। পরে ওসির নির্দেশে ডিএমপি ও দক্ষিণখান থানাসহ সারা দেশের প্রত্যেক থানায় ম্যাসেজ পাঠানো হয় এবং ওসি পাগলা থানা নামে ফেইসবুক আইডি থেকে শিশু লামিমের ছবিসহ পোস্ট করা হয়। এরপর হারানোর শিশু সন্তান লামিমের সন্ধান পেয়ে শুক্রবার দুপুরে পাগলা থানায় এসে হাজির হন লামিমের বাবা রুবেল মিয়া।
পরে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে বাবা’র কাছে তুলে দেয়া হয় শিশু লামিমকে । এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এসময় শিশু লামিমের পিতা রুবেল মিয়া বলেন, লামিমের মা নেই তার মা গত দেড় বছর আগে রুবেল মিয়াকে তালাক দিয়ে চলে যায় তাই লামিম তার সাথেই থাকে। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী। নিজের শারীরিক সমস্যা এবং কর্মজীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ছেলের দেখাশোনায় অনেক সময় ঘাটতি হয়। বৃহস্পতিবার কাজকর্ম শেষে ফিরে এসে ছেলেকে বাসায় না পেয়ে খোজাখুজি শেষে ঢাকা দক্ষিণখান থানায় জিডি করতে এসে জানতে পারি, তার ছেলে ময়মনসিংহের পাগলা থানায় হেফাজতে রয়েছে। শুক্রবার বিকালে হারানোর ছেলেকে ফিরে পেয়ে ওসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন, শিশুটি উদ্দেশ্য বিহীন গফরগাঁও চলে এসেছে। সংবাদ পেয়ে শিশুটির বাবা থানায় এসেছিলেন। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না!!