মোঃ জাকির হোসেন।।
অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস আয়না ঘর খ্যাত গোপন বন্দিশালা ও টর্চারস সেল পরিদর্শন করেছেন।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার তিনটি এলাকায় র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দীশালা ও টর্চার সেল পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এসময় ৬ জন উপদেষ্টা, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী, আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, গুম কমিশনের সদস্য ও গুমের শিকার ৮ জন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পরিদর্শনে ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘যা দেখেছি তা বর্ণনা করার মতো না, এটা অবর্ণণীয়। বর্ণনা যদি করতে হয় তাহলে বলতে হয় এটা বিভৎস দৃশ্য। মানুষের মনুষ্যত্ববোধ বলে যে কোনো কিছু আছে এই দৃশ্য মনুষ্যত্ববোধ থেকে বহু দূরে। যা হয়েছে এখানে, গুমের শিকার যে কয়জন আমাকে বর্ণনা দিয়েছেন সেগুলো অবিশ্বাস্য, নৃশংস অত্যাচার। যতটাই শুনি অবিশ্বাস্য লাগে। বিনাদোষে তাদেরকে তুলে এনে টর্চার করা হয়েছে। এটাই কি আমাদের সমাজ, এই সমাজই কি আমরা গড়লাম?’
তিনি বলেছেন, গত সরকার সর্বক্ষেত্রে আইয়ামে জাহেলিয়াকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছে, এই আয়নাঘর হলো তার একটা নমুনা।
‘যে খুপড়ির মধ্যে তাদেরকে রাখা হয়েছে গ্রামে মুরগির খাঁচাও এর থেকে বড় হয়। তাদেরকে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। মানুষ হিসেবে সামান্যতম মানবিক অধিকার থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে’, প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
তিনি বলেছেন, এটা আমাদের সবার অপরাধ যে এটা আমরা হতে দিয়েছি। যারা করেছে তারা আমাদেরই সন্তান, ভাই, আত্মীয়। এই সমাজকে নিপীড়নের এই চূড়ান্ত রূপ থেকে বের করে না আনতে পারলে এ সমাজ টিকে থাকবে না।
প্রধান উপদেষ্টা কমিশনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা কোদাল হাতে দেয়াল ভেঙে এসব টর্চার সেল আবিষ্কার করেছে।
গুমের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই বিচার করতে হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘যারা এর সঙ্গে জড়িত অবশ্যই তাদের বিচার করতে হবে তা না হলে আমরা নিষ্কৃতি পাব না।’