বাকৃবিতে গাভীর ওলান ফোলা রোগ নির্ণয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কর্মশালা

শেয়ার করুন :

মোঃ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি।।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গাভীর ওলান ফোলা রোগ নির্ণয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

দুধ উৎপাদন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অন্যতম ম্যাসটাইটিস বা ওলান ফোলা রোগ। এটি গাভীর নীরব ঘাতক রোগ হিসেবে পরিচিত। মাঠ পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল ও সাব ক্লিনিক্যাল এই দুই ধরনের ওলান ফোলা রোগ দেখা যায়। ক্লিনিক্যাল ম্যাসটাইটিস সহজে নির্ণয় করা গেলেও কোন লক্ষণ প্রকাশ না করায় সাব ক্লিনিক্যাল ম্যাসটাইটিস সহজে নির্ণয় করা যায় না। তাছাড়া এই রোগ নির্ণয় করার জন্যে উল্লেখযোগ্য কোন যন্ত্র উদ্ভাবিত না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খামারীরা।

নিরাপদ দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার ডেইরি মিল্কে ওলান ফোলা এবং ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু সণাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় এসব কথা জানান প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু হাদী নূর আলী খান।

তিনি আরও বলেন: দেশে প্রথমবারের মতো মাঠ পর্যায়ে সাব ক্লিনিক্যাল ম্যাসটাইটিস রোগ নির্ণয়ের জন্য ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ যন্ত্র দুধের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা, তাপমাত্রা ও দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের পরিমাণ নির্ণয়ের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে। পাশাপাশি যন্ত্রটি ব্যবহারে মাঠ পর্যায়ে কম সময়ে, খুব সহজে ও সুলভ মূল্যে রোগ নির্ণয় সম্ভব।

ড. মো. আবু হাদী আরও বলেন, নিরাপদ দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ শিক্ষা, তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় গত দুই বছরে ৩৯টি খামারের মোট ১০০টি গাভীর ওপর ম্যসটাইটিসের জীবাণু শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে ২৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ গাভীর ওলানের এক চতুর্র্থাংশ সাব ক্লিনিক্যাল ম্যাসটাইটিসে আক্রান্ত।
তিনি আরও বলেন, দুধ দুহানোর আগে ও পরে জীবাণুনাশকের সাহায্যে গাভীর ওলান পরিষ্কার করতে হবে। পরে শুকনো কাপড় দিয়ে ভেজা ওলান মুছে দিতে হবে। গাভীর জন্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ম্যাসটাইটিস প্রতিরোধ সম্ভব। তাই এ রোগ প্রতিরোধে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করণ খুব জরুরি।

কর্মশালায় গবেষণা প্রকল্পের সহযোগী গবেষক ও প্যাথলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মুনমুন পারভীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাকৃবির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল। গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট পিএইচডি ফেলো তাসনিয়া তাবাসসুম আনিকাসহ ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *