প্রকাশিত হয়েছেঃ মে ১৫, ২০২৩ সময়ঃ ১:০২ অপরাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার গোয়ারী গ্রামে উইন্ডি গ্রæপের সাইনবোর্ড টানিয়ে অনৈতিকভাবে দু’টি বিলের জলাশয় ভরাটের পাশাপাশি মাটি ফেলে চলাচলের একমাত্র সরকারী রাস্তাটি বন্ধ করে শতাধিক পরিবারকে অবরুদ্ধের চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয় টেকের ভিটার বাসিন্দাদের অভিযোগ। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর পর কোম্পানীর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় প্রতিনিধি উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম রিপন ও শহিদুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে এবং কোম্পানির প্রতিনিধি শারফুল ইসলাম ও জাকির হোসেনের নেতৃত্বে গালইলেরটেক ভিটার বেশ কয়েকটি বাড়িসহ গারোইল ও দোইল্লা বিল থেকে ১৫০ বিঘা জমি ক্রয় করে উইন্ডি গ্রæপের সাইনবোর্ড টানিয়ে ফসলি জমি ও সরকারের খাসভূমি অবৈধভাবে ভরাট করা হচ্ছে। কোন অনুমতি ছাড়াই প্রায় এক মাস ধরে শতাধিক ড্রাম ট্রাক ও ভেকু দিয়ে পাশের চান্দরাটি গ্রামের বাজাইল বিলের খাস জলাশয়সহ বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কেটে নিয়ে বিল দু’টি ভরাট করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
গোয়ারী গ্রামের মরহুম একুব আলী সরকারের ছেলে ফজলুল হক সরকার অভিযোগ করেন, তার পৈত্রিক ২১ শতাংশ জমি ওই কোম্পানির নিয়োজিত লোকজন জোরপূর্বক জবর দখল করে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন। কয়েকদিন পূর্বে মাটি ফেলায় বাঁধা দিলে কোম্পানির নিয়োজিত লোকজন তাকে লাঠি সোটা নিয়ে মারতে আসেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, তার নিজস্ব জমির চর্তুদিকে মাটি ফেলে তাকে এক রকম অবরুদ্ধ করে স্বপরিবারে উচ্ছেদ করার স্বরযন্ত্র ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
ওই গ্রামের আব্দুল আউয়াল (৬০) জানান, তাদের বাড়ির সামনে কোম্পানীর লোকজন মাটি ফেলে চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে টেকের ভিটা এলাকার প্রায় দুই থেকে আড়াইশ মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। তিনি জানান, ১৯৯৩/৯৪ সালে বিরুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মফিজ মল্লিক ভালুকা-গফরগাঁও সড়ক থেকে গোয়ারী হুড়াইল বিলের পাড় হয়ে দক্ষিণে একুব আলী সরকারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি করে যান। পরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দীন ও সাবেক চেয়ারম্যান কাইয়ূম সরকার রিপন এ রাস্তাটি পূনঃ সংস্কার করেন। হটাৎ করে উইন্ডি গ্রæপের স্থানীয় প্রতিনিধিদের তত্বাবধানে ওই রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। এর ফলে এলাকার স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী ও গ্রামবাসীর যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার পাঁয়তারা করছে বলে তাদের অভিযোগ।
টেকের ভিটার কাঞ্চন মিয়া (৫৫) জানান, তাদের ওই ভিটায় নতুন পাঁকা মসজিদ হয়েছে মাটি ফেলায় মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে পারছেন না।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার সাথে কোম্পানীর লোকজনদের যোগসাজশ রয়েছে। ফলে একাধিকবার অভিযোগ দেয়ার পরও তিনি নিরব ভূমিকা পালন করেন।
উইন্ডি গ্রæপের স্থানীয় প্রতিনিধি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম সরকার রিপন রাস্তা বন্ধের কথা অস্বীকার করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার আমলে ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় ওই রাস্তায় তিনি নিজে একুব আলী সরকারের বাড়ি পর্যন্ত কাজ করিয়েছেন। ফজলুল হক সরকারের অভিযোগ সত্য নয় কোম্পানির ক্রয়কৃত জমিতেই মাটি ভরাট করছেন তারা। জোরপূর্বক কারো জমিতে মাটি ফেলেননি।
স্থানীয় চেয়ারম্যান শামছুল হোসাইন জানান, উইন্ডি গ্রæপের অনুমোদনহীন ভাবে বাজাইল বিলের সরকারী খাস জমি থেকে মাটি নিয়ে গারোইল ও দোইল্লা বিল ভরাটসহ গায়েরজোরে এলাকাবাসির চলাচলের একমাত্র সরকারী রাস্তাটিও বন্ধ করে দিচ্ছে। এমনকি ট্রাকে মাটি বহনের কারণে একাধিক কাঁচা পাকা রাস্তা নষ্টের বিষয়ে ধূলোবালিতে পরিবেশ দূষনের বিষয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো: গোলাম মোস্তফা জানান, ইউএনও স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি ফেলার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: এরশাদুল আহমেদ জানান, জলাশয় ভরাট ও মাটি ফেলে এলাকাবাসির চলাচলের রাস্তা বন্ধের বিষয়ে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। পরে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে মাটি ফেলার কাজ বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ কাগজপত্র নিয়ে সাক্ষাতের জন্য বলা হয়েছে।

