প্রকাশিত হয়েছেঃ মে ১০, ২০২৩ সময়ঃ ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় এই ভ্যাপসা গরমে পিডিবি ও পল্লীবিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীসহ সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকরাই বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাছাড়া লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শিল্প কারখানাগুলোতে তাদের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টাদের অভিযোগ। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকার কারণে প্রতিদিনই লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ জানান।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ভালুকা পৌরএলাকাসহ উপজেলার সর্বত্রই অব্যাহতভাবে লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ থাকলেও এমন লো-ভোল্ডেজ দেয়া হচ্ছে যে, ফ্রিজ, ফ্যান এমনকি পানি তোলার ছোট মোটর পর্যন্ত ঘুরছেনা। ছোট ও মাঝারী ব্যাবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের লোডশেডিং ও লো-ভোল্ডেজ দেয়া হচ্ছে বেশি। দিনে এমনকি রাতে বেশ কয়েকবার লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যায় ও ভোররাতে লোডশেডিং দেয়া হয়ে থাকে। গ্রাম এলাকার গ্রাহকরা জানান, গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় রয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ। বিভিন্ন অযুহাতে গ্রামাঞ্চলে বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। আর তার সাথে সাথে যতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকে তার বেশিরভাগ সময়ই লো-ভোল্ডেজের কারণে বাসা-বাড়ির পানি উঠানোর মোটর, ফ্রিজ এমনকি পাওয়ার লাইট পর্যন্ত জ্বলছেনা। তাছাড়া লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা প্রায় দুই শতাধিক শিল্প কারখানায় তাদের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টাদের অভিযোগ।
একাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, বর্তমানে ভালুকায় বিদ্যুতের চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ সমস্যার সমাধানও পাওয়া কঠিন। কার কাছে অভিযোগ করবেন, তারও কোন জায়গা নেই। এখন দেশের যে পরিস্থিতি প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেনা কেউ। নিরবেই হজম করতে হচ্ছে এই নির্মমতা। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও ভোররাতে বিদ্যুৎ না থাকায় এই ভ্যাপসা গরমে গ্রাহকরা চরমভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কৃষিকাজে নিয়োজিত অনেক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে এই সময়টায় কৃষি জমিতে সেচকাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে, এতে বিদ্যুতের ঘাটতিও কম হওয়ার কথা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এই সময়ে ২৪ ঘন্টায় প্রায় ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকাটা মেনে নেয়ার মতো নয়।
সূত্রে জানা যায়, ভালুকা পৌরএলাকায় সারা বছরই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে পৌরএলাকাতেও ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা, এমনকি কোন কোন দিন আরো বেশি লোডশেডিং ও লো ভোল্ডেজের কবলে পরে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ফলে চরম ভোগান্তিতে আছেন পৌরবাসি।
ভালুকা পৌরএলাকায় অবস্থিত শেফার্ড ডায়িং কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো: মোখলেছুর রহমান জানান, এক ঘন্টা পর পর বিদ্যুতের লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমানে তারা ২৪ ঘন্টার মাঝে প্রায় ১২ ঘন্টাই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। তাছাড়া গ্যাসেরও সংকট তীব্র, তাই উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অর্ডারও নেয়া সম্ভব হয়ে উঠছেনা। অচিরেই এই সম্যস্যার সমাধান না হলে দেশের অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিবে।
ভালুকা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী এজেডএম আনোয়ারুজ্জামান জানান, ভালুকায় গ্রাহক সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩১ হাজার। আর বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৮ মেগাওয়াট। তবে প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না থাকায় লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। গ্যাসের প্রেসার কম থাকার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঠিকঠাক মতো না হওয়ায়ও লোডশেডিং এর কারণ বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ জানান, বিদ্যুৎ সমস্যাটি ময়মনসিংহ জোনেই। ভালুকা, শ্রীপুর, গফরগাঁও ও ত্রিশাল এই চার উপজেলায় মোট গ্রাহক রয়েছে সাড়ে চার লাখ। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ভালুকায় চাহিদা রয়েছে ১১৩ মেগাওয়াট কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৬৫ মেগাওয়াট। সামনের দিনগুলোতে ধীর ধীরে বিদ্যুৎ সমস্যা কমে আসবে বলেও তিনি জানান।

