
আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ কাজ বেসরকারি এই ১৯ ডিপার মাধ্যমে শেষ হয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিমাসে ডিপোগুলো গড়ে ১৭০ থেকে ১৭৫ কোটি টাকা লাভ করে। কিন্তু বিগত তিন মাসে চট্টগ্রামের বেসরকারি ডিপোগুলোতে বিগত বছরের (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) তুলনায় ৪৬ হাজার ৫৭৮ টিইইউএস আমদানি কনটেইনার ও ৪ হাজার ৪০৯ টিইইউএস রপ্তানি কনটেইনারের খালাস কমেছে। ফলে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন ডিপো মালিকরা।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে অবস্থিত বেসরকারি ১৯ ডিপো দিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৬৪ হাজার, অক্টোবরে ৮৪ হাজার ৭৭৯ ও নভেম্বরে ৬২ হাজার ৮৯৫ টিইইউএস পণ্য আমদানি হয়েছিল। পাশাপাশি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ৫৬ হাজার ৯৭৮ টিইইউএস, অক্টোবরে ৫৪ হাজার ৩১২ টিইইউএস ও নভেম্বরে ৫৪ হাজার ৭৮৪ টিইইউএস পণ্য আমদানি হয়।
এদিকে গতবছরের সেপ্টেম্বরে ২২ হাজার ৭৬৬ টিইইউএস, অক্টোবরে ২৩ হাজার ১৯৩ টিইইউএস ও নভেম্বরে ১৯ হাজার ৭৩৭ টিইইউএস পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। পাশাপাশি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ২০ হাজার ৬৭৩ টিইইউএস, অক্টোবরে ২০ হাজার ২৩০ টিইইউএস ও নভেম্বরে ২০ হাজার ৩৮৪ টিইইউএস পণ্য রপ্তানি হয়ছিল এসব ডিপোর মাধ্যমে। 
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বলেন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ জাহাজীকরণ প্রক্রিয়া ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে সম্পন্ন হয়। পণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি কমে গেছে। ফলে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদনও কমে গেছে। গত তিন মাসে আমদানি ও রপ্তানি প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে আমাদের শত কোটি টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে।
বেসরকারি ডিপোগুলোর মাধ্যমে যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তার অধিকাংশই পোশাক পণ্য। বর্তমানে পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকায় চট্টগ্রামের পোশাক কারখানাগুলোও সংকটময় সময় পার করছে। পোশাক পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণেও ডিপোগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রথম সহ সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের পোশাক কারখানাগুলো সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। আমেরিকা ও ইউরোপ হচ্ছে আমাদের বড় বাজার। সেখানে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। মানুষ এখন আর আগের মতো পোশাক কিনছে না। ফলে বায়ারদের মজুত রয়ে গেছে। তাই বায়ারদের কাছ থেকে কার্যাদেশ আসছে না।
কারখানা থেকে রপ্তানি পণ্য ডিপোতে এনে কনটেইনারে বোঝাই করা হয়। এরপর শুল্কায়ন শেষে ডিপো থেকে বন্দরে পাঠিয়ে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। আর ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে নামানোর পর ডিপোতে নিয়ে খালাস করা হয়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়, তার প্রায় ৯০ শতাংশই পরিবহন করা হয় ১৯টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো থেকে। আর বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা মোট কনটেইনারের মধ্যে গড়ে ২৩ শতাংশ খালাস হয় এসব ডিপো থেকে। গত বছর ১০ লাখ একক কনটেইনার ব্যবস্থাপনা করেছে চট্টগ্রামের ডিপোগুলো।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রামে প্রথম এই শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে এই শিল্প স্থাপনে নিয়মকানুন জারি করা হয়। শুরুর দিকে খালি কনটেইনার সংরক্ষণাগার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ডিপোর কাজের পরিধি বাড়তে থাকে। তবে বর্তমানে খারাপ সময় পার করলেও নতুন বছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা ডিপো মালিকদের।