নিজস্ব প্রতিবেদক, দিগন্তবার্তা ডেক্স।।
গফরগাঁও উপজেলা নবগঠিত বিএনপি আহবায়ক কমিটিতে ফখরুল হাসান নামে এক ব্যক্তিকে যুগ্ন আহ্বায়ক পদে স্থান দেয়া নিয়ে উপজেলা বিএনপির মাঝে নানা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার অনেকেই বিগত দিনে হামলা ও মামলার শিকার, ত্যাগী পরিক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে ইনেক্টিভ ব্যক্তিকে উপজেলা বিএনপি ৫ নম্বর যুগ্ন আহ্বায়ক করায় উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফকরুল ময়মনসিংহ জেলা বিএনপি নেতাদের কাছে গফরগাঁও উপজেলার দলীয় বড় নেতা
হিসেবে নিজেকে জাহির করেন। তিনি নিজে দলীয় কোন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ না করলেও কর্মসূচির বিষয়টি আগেই স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে দেন বলে অনেকেরই অভিযোগ। তার কারণে কোনো কর্মসূচীই সফল করতে পারেন না উপজেলা বিএনপি নেতারা। এমনকি জেলা বা উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের একজনের বদনাম আরেক জনের কাছে বলে বেড়ান। অহেতুক কুৎসা রটিয়ে দলের ভেতর কোন্দন লাগিয়ে রাখাই মূলত তার কাজ। তাছাড়া উপজেলায় তার সামাজিক অবস্থানও একেবারে নিচু স্তরে। পারিবারিক অবস্থাও ভাল নেই। তার বাড়ি উপজেলার বারবাড়িয়া ইউনিয়নে। তিনি ফ্রান্সে চাকরি দেয়ার কথা বলে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এবং দলীয় পদ পদবি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভান দেখিয়ে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সমূহের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এলাকার টাউট বাটপার প্রকৃতির লোকজনের সাথে তার সুসম্পর্ক। তাকে দেখে ‘ওই যে বিএনপির বড় নেতা’ এমন টিকা টিপ্পুনি দিয়ে মানুষ কথা বলে। তাকে শুধু ফেসবুকে সাংগঠনিক প্রচার প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও বাস্তবে মাঠে-ময়দানে কখনো দেখা যায় না। উপজেলা বিএনপিতে পদ পাওয়ার আগে গফরগাঁও উপজেলায় তাকে কেউ বিএনপির নেতা হিসেবে জানতেন না।
অভিযোগ রয়েছে, মধ্যপাচ্য দেশ ফ্রান্সে চাকুরি বা ভিসা দেয়ার কথা বলে মালয়েশিয়া প্রবাসি পাঁচজনের কাছ থেকে কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ফখরুল হাসান। তাদের মাঝে উপজেলার পাঁচভাগ ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের বিপ্লব ড্রাইভারের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা, গৌরিপুর পৌরসদরের জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে ১৪ লাখ, একই এলাকার এমদাত মিয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার, গফরগাঁওয়ের পাচঁভাগ ইউনিয়নের ছোরহাব মেম্বারের ছেলে সিয়ামের কাছ থেকে ১২ লাখ ও টাঈাইল জেলার মির্জাপুরের লিটনের কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেন উক্ত ফকরুল। পরে বিদেশে না নিয়ে তাদের কয়েকজনকে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাত করেন।
প্রতারনার শিকার বিপ্লব, এমদাত ও জাহাঙ্গির জানান, তারা পাঁচজন মালয়েশিয়া চাকরী করতেন, ফখরুল তখন ফ্রান্সে অবস্থান করতেন। তার সাথে প্রথম কথা হয় বিপ্লবের, পরে ফ্রান্সে নেয়ার কথা বলে বিপ্লবের কাছ থেকে ৪ লাখ, জাহাঙ্গিরের কাছ থেকে সাড়ে ১৪ লাখসহ তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ফকরুল। গফরগাঁও উপজেলা বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক শহিদুর রহমান বলেন, ফখরুল হাসান ২০০৮ সাল থেকে তিনি রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না বা এলাকায় তাকে দেখা যায়নি। হুট করে কিভাবে তিনি বিএনপির মতো একটি প্রভাবশালী দলের উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায় হয়ে গেলেন, তা তিনি বুঝতেই পারেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লোকমুখে শুনেছেন, বিদেশে নেয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন।
উপজেলা কৃষকদল নেতা আমিনুল ইসলাম জানান, ফখরুল হাসান কিভাবে উপজেলা বিএনপির আহবয়ক কমিটির সদস্য হলেন, এটা সকলেরই প্রশ্ন।
দু:সময়ে যারা মামলা হামলার শিকার হলেন, তারা কমিটিতে আসতে পারেননি, কিন্তু টাকা আছে বলেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা করে নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ফখরুর হাসান তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদের কাছ থেকে বিদেশে নেয়ার কথা বলে টাকা নেয়া হয়েছিলো, তা অনেক আগেই সকলকেই মিটিয়ে দেয়া হয়েছে।