ভালুকায় সুদখোরদের টাকার চাপ সইতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় সুদখোরদের টাকার চাপে এবং কথামতো সুদের টাকা দিতে না পারায় ঘর থেকে সকল আসবাবপত্র বের করে নেয়ার অপমান সইতে না পেরে নাছরিন নাহার (৪৫) নামে এক গৃহবধূ ঘরের আঁড়ার সাথে গলায় উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভরাডোবা দুলারভিটা বাইন্নাবাড়ি এলাকায়। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে।
সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা দুলারভিটা বাইন্নাবাড়ি এলাকার আনিসুজ্জামান সুরুজের ছেলে রিফাদ মিয়া (২৭) প্রতিবেশি হানিছ ফকিরের ছেলে সুদের কারবারী রুবেল ফকিরের কাছ থেকে গত ইউপি নির্বাচনের পূর্বে সপ্তাহে এক হাজার ৫০০ টাকা সুদে ১৫ হাজার টাকা নেন। ইতোমধ্যে সুদের ৩০ হাজার টাকা পরিশোধও করা হয়। তাছাড়া সোমবার বিকেলে রুবেলকে আরো ৬০ হাজারা টাকা দেয়ার কথা। কিন্তু টাকার ব্যবস্থা না হওয়ায় সন্ধ্যায় রুবেল তার স্ত্রী ইলা আক্তার, ফুফু বকুলী ও প্রতিবেশি শাহজাহানসহ কতিপয় লোক গৃহবধূ নাছরিন নাহারের সামনে তার ঘরের সব আসবাবপত্র বের করে নেয়। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে রুবেল ও তার স্ত্রী ইলা আক্তার গৃহবধূ নাসরিনকে মারধর করা হয়। এতে অপমানিত হয়ে রাগে ও ক্ষোভে পাশের ঘরের আঁড়ার সাথে গলায় উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। খোঁজ পেয়ে ছেলে রিফাদ মাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন।
নিহতের এক মাত্র ছেলে রিফাদ মিয়া জানান, ১৫ হাজার টাকার জন্য রুবেলকে ইতোমধ্যে ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়। কিন্তু ঘটনার তিন আরো ৬০ হাজার টাকা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় ঘর থেকে আসবাবপত্র বের করে নেয় এবং তার মাকে মারধরও করা হয়।
রিফাদের বোন কনিকা জানান, তার মাকে রুবেল ও তার স্ত্রী ইলা হত্যা করে পাশের ঘরের আঁড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে এবং ঘরের সব আসবাবপত্র নিয়ে যায়। তার মা আত্মহত্যা করতে পারেন না।
প্রতিবেশিরা জানান, গত ইউপি নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করার জন্য টাকার দরকার হলে রিফাদ মিয়া ব্যাংকের চেক দিয়ে ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে অপর প্রতিবেশি মৃত আজিজ সরকারের ছেলে সুদের কারবারি খাইরুল ইসলামের (৪৫) কাছে ২০ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। কিন্তু তাকে ৭ লাখ টাকা দেয়া হলেও বাকি টাকা না দিয়ে উল্টো চেকের মামলা দিয়ে হয়রানী করেন। রিফাদের মায়ের মৃত্যুর জন্য ওই ঘটানটিও দায়ি। তারা আরো বলেন, এই পাড়ায় বিকেল থেকে শুরু হয়ে শেষ রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের জুয়ার আসর। আর ওইসব জুয়ার টাকা যোগান দেন স্থানীয় সুদের কারবারী রুবেল ও খাইরুল এবং টাকা পরিশোধ করতে না পারলে জমি লিখে নেয়া তারা।
অভিযুক্ত রুবেল ও খাইরুলের মোবাইল নম্বরে বার বার চেষ্টা করলেও ফোন কেটে দেয়ার তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
ভালুকা মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, নিহত গৃহবধূর লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *