।। মুহাম্মদুল্লাহ।।
মানুষ এখন ইসলামি সঙ্গীতের প্রতি ঝুঁকছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সাধারণ মানের একটি ইসলামি সঙ্গীতও কোটি মানুষ দেখছে। দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করছে ইসলামি গানগুলো। এটি অবশ্যই আশাজাগানিয়া কথা।
কিন্তু সমাজের সর্বস্তরে ইসলামি সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে যত সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান দরকার, এখনো সে পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কথাগুলো বলছিলেন স্টুডিও ওয়ানের সিইও সিরাজুল ইসলাম আকন।
সিরাজুল ইসলাম আকনের জন্ম বরিশালের চরমোনাইয়ে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। ঢাকা আলিয়া থেকে মাস্টার্স করেছেন। পড়াশোনা শেষ করে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন একটি বিজ্ঞাপন সংস্থায়। বর্তমানে গন্ধরাজ আবাসন লিমিটেড নামে একটি রিয়েল স্টেট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সিরাজুল ইসলাম আকন শৈশব থেকেই ইসলামি সংস্কৃতিকে মনেপ্রাণে লালন করতেন। ভালোবাসতেন ইসলামি সঙ্গীতকেও। তিনি চাইতেন দেশের সব শ্রেণির মানুষ ইসলামি সঙ্গীত শুনুক।
শৈশবের সেই স্বপ্ন পূরণেই রাজধানীর সাইনবোর্ডে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান স্টুডিও ওয়ান তৈরি করেছেন সিরাজুল ইসলাম আকন। স্টুডিও ওয়ানে বর্তমানে কাজ করেন ১৫ জন কর্মী। তাদের নিয়মিত শিল্পী রয়েছে ২৫ জন।
সিরাজুল ইসলাম আকন বলেন, গত এক বছরে স্টুডিও ওয়ান থেকে ১৪০টির বেশি ইসলামি সঙ্গীত রিলিজ হয়েছে। যার বেশিরভাগই প্রচুর দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে, পাগড়ি ওয়ালা, শবে বরাত, মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহর ‘মৃত্যুর মুরাকবা’, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ আজাদির ‘তেল’ এবং কারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের ‘আমার মন মজাইয়া রে’ সঙ্গীতসহ বেশ কয়েকটি সঙ্গীত কোটি কোটি দর্শক দেখেছেন এবং পছন্দ করেছেন।
স্টুডিও ওয়ানের রেকর্ডের মানের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য স্টুডিও থেকে রেকর্ডের মান আমরা সবসময়ই ভালো করার চেষ্টা করি। দেশে যতজন ইসলামি সঙ্গীত রেকর্ডের খ্যাতিমান সাউন্ড ডিজাইনার রয়েছে, আমাদের স্টুডিও ওয়ানের মাহদি হাসান তাদের একজন। মাহদি হাসান প্রতিটি কাজ করে অত্যন্ত দক্ষতা ও নিপুণতার সঙ্গে। যার কারণে তার কাজগুলো ভালো হয়। সঙ্গীতপ্রেমীরা পছন্দ করে।
স্টুডিও ওয়ানের সিইও সিরাজুল ইসলাম আকন বলেন, প্রতিভা আছে তো ঘুরে দাঁড়াও, আমরা আছি তোমার পাশে, দু’হাত বাড়াও–- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমরা দুর্বার গতিতে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী রয়েছে। যারা একটু দিকনির্দেশনার অভাবে কিংবা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিজের প্রতিভাকে প্রকাশ করতে পারছে না, আমরা মূলত তাদের নিয়েই কাজ করতে চাই।
বয়সে ছোট এবং সত্যিকার প্রতিভাবান শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতেই আমরা বেশি আগ্রহী। প্রয়োজনে স্টুডিও ওয়ান থেকে আমরা তার পড়াশোনা থেকে শুরু করে যাবতীয় খরচ বহন করবো। বর্তমানে এমন কিছু শিল্পীর দায়িত্ব স্টুডিও ওয়ান বহন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
সিরাজুল ইসলাম আকন বলেন, ভিন্ন ধারায় গান গায়- এমন শিল্পীদেরও আমরা কাছে টানছি। তাদের ইসলামি সঙ্গীতে আগ্রহী করার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, স্টুডিও ওয়ানে এত টাকা বিনিয়োগ করেও নিজের বাণিজ্যিক স্বার্থ দেখছি না। বরং প্রতিভাবানদের জন্য বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য একটি প্লাটফর্ম দাঁড় করানোই আমার মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইসলামি সঙ্গীতের কাজ হচ্ছে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে। এটি নিতান্তই অপ্রতুল। দেশের সবশ্রেণির মানুষের কাছে ইসলামি সংস্কৃতি ও সঙ্গীতকে পৌঁছাতে হলে স্টুডিও ওয়ানের মতো আরও অসংখ্য প্রতিষ্ঠান দরকার।