স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা।।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নানা অনিয়মতান্ত্রিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দোকানে কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সনদ দেয়ার নামে টাকা আদায় ছাড়াও হোটেল রেস্তোরা থেকে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে ও একাধিক অভিযোগে জানা যায়, হোটেল রেস্তোরায় পঁচা বাসি খাবার হরদম বিক্রি হলেও রহস্যজনক কারণে সেসব দেখার প্রয়োজন মনে করেননি স্যনেটারী ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান। সম্প্রতি ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সেভেনস্টার হোটেলে তরকারীতে তেলাপোকা পাওয়া যাওয়ায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও সালমা খাতুন। সম্প্রতি বাসস্ট্যান্ড হাজী বিরিয়ানী নামে হোটেল থেকে পার্সেল আনা বিরিয়ানীতে একাধিক পোকা পাওয়া যায়। তাছাড়া বাজার রোডে বসা গরুর দুধ বিক্রেতারা প্রকাশ্যে পাউডার মিশ্রিত বা পানি ব্যবহার করে দুধ বিক্রি করলেও কোন ব্যবস্থা নিতে চোখে পড়েনি। মিষ্টির দোকানগুলোতে ওজনে কম দেয়া এমনকি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ২০০ গ্রাম ওজনের মিষ্টির কার্টুন দিয়ে মিষ্টি বিক্রি করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। উপজেলার ৩০ টি বাজারে প্রায় অর্ধশতাধিক মিষ্টির দোকান রয়েছে। এদের প্রতি বছরই ফিটনেস নবায়ন করা লাগে। এ সনদ নবায়নের জন্য নেয়া হচ্ছে ৫০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা করে। ভালুকা পৌরসভার হাসপাতাল রোড, বাজার, উপজেলা পরিষদ এলাকা, কলেজ পাড়া, থানামোড়সহ বেশ কিছু স্পটে এমনকি উপজেলার সব কটি বাজারে অবস্থিত মাংস বিক্রেতারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এবং পরীক্ষা ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর ও রোগা গরু ছাগল প্রকাশ্যে জবাই করে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মাংস বিক্রেতাদের সাথে স্যানেটারী ইন্সপেক্টরের যোগসাজশ থাকায় ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। ভালুকা বাজার রোডে পাঁচরাস্তা পর্যন্ত বসা কলা ব্যবসায়িরা বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে আগুণের তাপ দিয়ে পাকানো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কলা প্রকাশ্যে বিক্রি করে মানুষের সাথে প্রতারনা করে যাচ্ছে, অথচ রহস্যজনক কারনে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।
ভালুকা বাসস্ট্যান্ডের অদুরে মহাসড়কের পূর্বপাশে মেঘারপাড়ে অবস্থিত একটি মিষ্টি তৈরীর কারখানায় বছরের পর বছর নোংরা পরিবেশে মিষ্টি তৈরি হলেও রহস্যজনক কারনে কোন ব্যবস্থা নিতে চোখে পড়েনি। বাসস্ট্যান্ড মসজিদের পাশে দুটি খাবার হোটেলের বর্জের দুর্গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে মুসল্লিগন নামাজ পড়তে চরম দুর্ভোগ পোহালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মুদি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শিশুখাদ্য বিপনন ও স্বাস্থ্য সনদ দেয়ার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেন স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান। অদ্যবদি অনেক ব্যক্তিকে সনদপত্র প্রদান করা হয়নি।
একাধিক হোটেল মালিক নাম প্রকাশ না করার সর্তে জানান, বছর চলে গেলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বলেননি বা স্বাস্থ্য সনদ দেয়া হয়নি। উপজেলার প্রায় সবকটি হাটবাজারে প্রকাশ্যে যৌন উত্তেজক ওষধসহ ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বিক্রি হলেও সেদিকে খেয়াল নেই ইন্সপেক্টরের। সুবিধা না পেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে মামলার হুমকী দেয়া হয়ে থাকে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান স্বাস্থ্য সনদের নামে অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উপজেলার ২০ টি বাজারে ছোট বড় ৪০ টি হোটেল রয়েছে। গত জুন থেকে ১৬৫ জনকে স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করা হয়েছে। টাকা দিতে না পারায় কিছু সনদপত্র দেয়া হয়নি। স্বাস্থ্য সনদের নামে টাকা নেয়ার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারাদেশেই তা নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া সিভিল সার্জন অফিস থেকে সনদ এনে দিতে হয়, তাতে যাতায়াত খরচ তো আছে। তিনি আরো বলেন, পৌরএলাকায় বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে অভিযান করা হলে অনেক বাঁধা আসে। তাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়ে উঠেনা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুল হোসেন জানান, কারো কাছ থেকে টাকা নিয়ে স্বাস্থ্য সনদ দেয়ার কোন নিয়ম নেই। দায়িত্বে অবহেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমানকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করা হয়েছে।