ভালুকায় টিসিবির পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

শেয়ার করুন :

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা ডেক্স।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে সুবিধাভোগী কার্ডধারীদের মাঝে স্বল্পমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে। এরই মাঝে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই সারাদিন কার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা পন্য কিনতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, ৪ জুলাই সোমবার উপজেলার ১১ নম্বর রাজৈ ইউনিয়নে ৩ টি পয়েন্টে মেসার্স সালমান ট্রেডার্সের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হয়। সকালে মধ্য রাজৈ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাদশা বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেণ। এ সময় ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান জামাল, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক বদরুদুজ্জামান খান ও যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আরিফুর রহমান লোটাস সহ আরো ও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, ৪০৫ টাকার প্যাকেজে এক কেজি চিনি, দুই কেজি মুসুর ডাল ও দুই কেজি সয়াবিন তেল বিক্রয় করা হয়। তবে চান্দাবর, সোহাল ও জামিরাপাড়ার গ্রামের একাধিক কার্ডধারী পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ড (চান্দাবর) এনামুল ও সাকিল ৫ নম্বর ওয়ার্ড সোহাল গ্রামের সোহাগ মিয়া, মজনু, আশরাফুল, চান্দাব গ্রামের নাঈম ও জামিরাপাড়া গ্রামের সুজন মিয়াসহ অনেকেই পণ্য কিনতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন।
জামিরাপাড়া গ্রামের (ওয়ার্ড নম্বর-৪) আবুল কালামের ছেলে সুজন মিয়া জানান, কার্ড নিয়ে তারা ১৪/১৫ জন পাইলাব চৌরাস্তায় গিয়েছিলেন, তখন ডিলার বলছে ৫০ টি মাল কম আসছে। পরে পণ্য না নিয়ে তারা ফিরে আসেন।
চান্দাব (নতুন বাজার পয়েন্ট) ওয়ার্ডের মেম্বার রফিকুল ইসলাম আকন্দ জানান, তাদের তিন ওয়ার্ডে মোট কার্ডধারির সংখ্যা ২৭০ জন। সোমবার ডিলার পণ্য বিক্রি করতে এসে ২২০ টি কার্ডের পণ্য রেখে ৫০ টির মালামাল নিয়ে যান। ফলে তার ওয়ার্ডের ৪০/৫০ জন সুবিধাভোগী পণ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
টিসিবির ডিলার মেসার্স সালমান ট্রেডার্সের মালিক খোরশেদ আলম ও ট্যাগ অফিসার (তদারকি কর্মকর্তা) উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল নম্বরে বার বার চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ না করায় এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাদশা জানান, তার ইউনিয়নের মোট কার্ডধারি রয়েছেন, ৮৬৫ জন। তিনি উদ্বোধন করে চলে আসার পর ডিলারদের কিছু স্বজনপ্রিতিরি কারণে কেউ কেউ পণ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তবে সামনে যাতে এমনটি না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং যারা পণ্য পায়নি, তাদেরকে পর্যায়ক্রমে ডেকে এনে পণ্য বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন জানান, অতিরিক্ত কার্ডধারিরা হয়তো পায়নি। বা সময়মতো না আসার কারণেও না পেতে পারেন। তবে বিষয়টি আমি দেখছি। অনিয়ম পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *