আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক থেকে সংযোগ সড়ক ভালুকার সীডষ্টোর-সখিপুর শহিদ শমসের রোডের লাউতি খালের উপর সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচল বন্ধ রেখে নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। এই অবস্থায় বিকল্প রাস্তাটি সঠিকভাবে না করায় গত দু’দিনের বৃষ্টির পানিতে ভেসে গিয়ে দু’পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ দিয়ে নির্মিত মই বেয়ে ভাঙ্গা পুরাতন সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত পথচারী চলাচল করছেন। এতে যে কোন মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অনেকেই আহত হচ্ছেন। জানা গেছে, সেতুর বিকল্প রাস্তার ওই অংশে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বালি-মাটি দিয়ে হালকা যান চলাচলের ব্যবস্থা করে দিলেও ঠুনকো সংস্কারে কোন সমাধান হচ্ছে না। আওলাতলী সড়কের ভিন্ন রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় ধরনীর বাঁশঝাড় থেকে সরু ইটের সলিং রাস্তাটি পুরপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে ভারি যানবাহন উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভাঙা সেতুর উভয় পাশে মালামাল ভর্তি ভারি যানবাহন আটকা রয়েছে। চালকরা জানান, সেতুর বিকল্প রাস্তাটি পানিতে ভেসে যাওয়ায় তাদের পক্ষে ঘুরে যাওয়াটাও দ্বিগুন খরচ ও বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক চালকের অভিযোগ, ব্রিজটি বন্ধ থাকলেও প্রবেশ পথে কোন নির্দেশনা নেই। স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, কাঁঠাল ও কাঁচামালবাহী যান, গার্মেন্টকর্মীসহ হাজার হাজার মানুষ দূর্ভোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং নিজ প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮২ সালের দিকে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত আরসিসি সেতুটি নিন্মমানের হওয়ার কারণে মেয়াদোর্ত্তীণ হওয়ার আগেই ভেঙ্গে গেছে। গত কয়েক বছর ধরে জোড়া-তালি ও রঙ লাগিয়ে সংস্কারের নামে মুলত ব্রিজটিকে ব্যবহার অযোগ্যের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তারা আরো জানান, রাস্তার কাজ চলমান থাকলেও ধীরগতির কারণে সীডষ্টোর সখিপুর সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়ে বর্ষা এলেই পানি জমে যান চলাচলে বিঘœ ঘটছে।
এ ব্যাস্ত সড়কটিতে প্রতিদিন দেশের একমাত্র মোটরসাইকেল তৈরির কারখানা রানার অটোমোবাইল, এনডিই লোহা ফ্যাক্টরির ভারি যানসহ কয়েকটি কারখানার শত শত গাড়ি ও অসংখ্য যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি চলাচল করে। ছোট গাড়িগুলো প্রায়ই গর্তে পড়ে দুর্ঘটনায় পড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রæত এই ভাঙা ব্রিজটি নির্মাণ চলাকালীন স্টীলের বিকল্প রাস্তা নির্মাণ করে পথচরী ও যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, সেতু নির্মাণ ও রাস্তার সংস্কার কাজের জন্য সাধারণ মানুষ চলাচলের ব্যাবস্থা হিসেবে পুরাতন সেতুটির পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা করা হয়েছিলো। কিন্তু উজানের ঢলের কারণে তা ভেঙ্গে গেছে। যা দ্রæত সংস্কারের জন্য ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে।