প্রকাশিত হয়েছেঃ মে ২৬, ২০২২ সময়ঃ ২:৪০ অপরাহ্ণ

Spread the love

মো: জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, ২৬ মে বৃহস্পতিবার।।

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের গোয়ালাকান্দা এবং হীরারকান্দার গ্রাম।
এই দুই গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে রাংসা নদী।
রাংসা নদীর উপরে সেতু না থাকায় যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে সরু নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই এখন আশপাশের ২০ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও, কথা দিয়েছেন অনেকে, মিলেছে আশ্বাস। কিন্তু কথা রাখেনি কেউ। স্বাধীনতার পর এতোবছর পেরিয়ে গেলেও হয়নি একটি পাকা সেঁতু। ফলে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে উপজেলার ২০ গ্রামের মানুষকে।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, নড়বড়ে ভাঙ্গা বাঁশের এই সাঁকোটি পেড়িয়েই হাজারো মানুষ,স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

হীরারকান্দায় নেই কোন স্কুল, কলেজ মাদ্রাসা বা শিক্ষাবান্ধব কোন স্থাপনা বা হাটবাজার। প্রতিনিয়তই তাদের এই সাঁকোটি পেড়িয়ে আসতে হয় গোয়ালাকান্দায়।

ছোট ছোট স্কুলের ছেলে মেয়েরা ঝুকি নিয়েই পাড় হয় এই সাঁকোটি। উৎপাদিত ফসল কাঁধে উঠিয়ে গন্তব্যে পৌছানো এযেন নিত্যনৈমত্বিক ব্যাপার। অসুস্থ রোগীকেও কাঁধে চড়িয়েই পাড় করতে হয় সাঁকোটি।আবার মাঝে মাঝে সাঁকোটির বাঁশের পাটাতন ভেঙ্গে ঘটে দূর্ঘটনা।

হীরারকান্দা গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম নারায়নপুর, দর্জিগাতি, পলাশিয়া, ধলীরকান্দা, শাশীকান্দার মানুষজন এই সাঁকোটি পেড়িয়েই গোয়ালাকান্দায় পৌছে তারপর উপজেলাসহ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
তেমনি গোয়ালাকান্দাসহ শিঙ্গেরকান্দা, রামপুর,মানিকদির, সাদিপুর, খলিশাজান, পারুলীতলা, নাগডরা, চাড়িয়া থেকে মানুষজন এই সাঁকোটি পেড়িয়েই আসেন হীরারকান্দা গ্রামসহ আশপাশের গ্রামে। প্রতিদিন প্রায় সহস্রাধিক লোক আশা যাওয়া করে দেড় ফুট চওড়া এই সাঁকোটি পেড়িয়ে। সাইকেল নিয়ে সরু এ বাঁশের সাঁকোয় পারাপারকারীদের পড়তে হয় চরম বিপত্তিতে ।

হীরারকান্দা গ্রামের মৃত সৈয়দ আলীর পুত্র কিতাব আলী (৭০) জানান, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দুটি বাঁশ জড়িয়ে তৈরী সাঁকোতে নদী পাড়াপাড় করেছেন। এখন সেখানে কেবল কয়েকটি সিমেন্টের খুঁটিতে চাউগাছের মাচার ব্যবস্থা হয়েছে। যাতে প্রতিনিয়তই ঘটে দূর্ঘটনা। ভারী কোন কিছুই পরিবহন করা সম্ভব হয়না। কয়েকদিন আগে সংগঠিত দূর্ঘটনায় ৪ জন আহত হয়েছেন। যাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

একই গ্রামের যুবক এমদাদুল হক (৩০) বলেন, জন্মের পর থেকেই এই সাঁকোটি পাড় হয়ে উপজেলাসহ দেশের সর্বত্র যাতায়াত করছি। আমাদের এই গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের হাজারো মানুষের স্বপ্নই বাঁধা পড়েছে বাশের নড়বড়ে সাঁকোতে।

এবিষয়ে রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, হীরারকান্দা গোয়ালাকান্দাসহ আশপাশের এলাকায় মানুষেরা একটি সেতুর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলেছি।

এদিকে ১৭ মে তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসনের মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

অচিরেই একটি পাকা সেতুর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রশাসন এমনটিই আশা করছে জনসাধারণ।

প্রকাশক ও সম্পাদক

আসাদুজ্জামান (ফজলু)

হাউজ নং: ২০, ফ্ল্যাট নং: বি২, রোড নং: ০৭

সেকশন: ১২, উত্তরা, ঢাকা – ১২৩০

মোবাইল: ০১৭১৮-১৯২৬৮৫, ০১৭৬১-৫৮২৩৩৮

ইমেইল: contact@digontabarta.com