ভালুকা সরকারি হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা চরমে, দালালদের আখড়ায় পরিণত

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।

শিল্পএলাকার জনসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে যেন এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের উপস্থিতি অনিয়মিত, জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মীদের। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যবহৃত হচ্ছে না বা রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে বলা হচ্ছে।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সক্রিয় দালালচক্র হাসপাতাল এলাকাজুড়ে অবস্থান নিয়েছে। হাসপাতালের গেট, করিডোর এমনকি জরুরি বিভাগের সামনেও দালালদের ঘোরাফেরা লক্ষ্য করা যায়। তারা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভুল তথ্য দিয়ে প্রলুব্ধ করে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলাম, কিন্তু এখানে এসে আরও বিপদে পড়েছি। দালালরা এমনভাবে কথা বলে, মনে হয় তাদের কথা না শুনলে চিকিৎসাই পাবো না।” ডাক্তার দেড়িতে চেম্বারে বসলেও চা খাওয়ার কথা বলে ঘন্টার পর ঘন্টা বাহিরে আড্ডা দেন। তাছাড়া ডাক্তাররা যেসকল ঔষধ লেখেন, তার বেশিরভাগ বাহির থেকে কিনে খেতে হয়। তারা ঔষধ সরবরাহ কম করে তা বাহিরে পাঁচারের অভিযোগ করেন।


ভর্তিকৃত রোগীদের অভিযোগ, তাদেরকে নিন্মমানের খাবার দেয়া হয়। অনেক সময় পঁচাবাসি খাবারও পরিবেশন করা হয়ে থাকে। বিছানার চাদর বালিশ নোংরা, বাদরুমে যাওয়ার পরিবেশ নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, দালালচক্রের সঙ্গে কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশ থাকতে পারে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, “দালালদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

স্বাস্থ্যসেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল বলছেন, দ্রুত দালালচক্র নির্মূল, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সেবার মান উন্নয়ন ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। অন্যথায় সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমেই কমে যাবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *