স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা ডটকম।।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী চিকিৎসকের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসাসহ বেশ কয়েকজন।
আবু সালেহ মো. মুসা ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি, দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক, দৈনিক যায়যায়দিনের ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান, ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক, ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সাধারণ সম্পাদক।
এ ছাড়া দেশ টেলিভশনের ক্যামেরাম্যান কাউসার মিয়া, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান সুমন আহমেদ, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অনলাইন টেলিভিশন আঙ্গর টিভির প্রতিনিধি শাওন ও জহিরুলও লাঞ্চিত হন।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকালে সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, দেশব্যাপী হাম রোগের ব্যাপক প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে যান আবু সালেহ মো. মুসাসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। সংবাদ সংগ্রহ করতে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের পরিস্থিতি জানতে চেয়ে ইন্টারভিউ নিতে চান আবু সালেহ মো. মুসা। এ সময় কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই নারী চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিতে চান। একই সাথে ওই নারী চিকিৎসক চিৎকার করে গার্ড ও আনসারদের ডেকে সাংবাদিকদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসা বলেন, আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমতি নিয়ে হাম রোগের তথ্য সংগ্রহ করতে যাই। সম্প্রতি হাম রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় অফিসের অ্যাসাইনম্যান্ট করতে হাসপাতালে যাই। হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের পরিস্থিতি জানতে চেয়ে ইন্টারভিউ নিতে চাই। এ সময় কোনোপ্রকার উসকানি ছাড়াই নারী চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিতে চায়। একই সাথে ওই নারী চিকিৎসক চিৎকার করে গার্ড ও আনসারদের ডেকে সংবাদকর্মীদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সাংবাদিকতা করাটাই দায়। আমি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায় বলেন, বিষয়টি খুব দুঃখজনক। আমরা ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সাথে ওই নারী চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি। আশা করি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।
ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমরা সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা আশা করি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করবেন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। এটা সাংবাদিকতা পেশার জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা সাংবাদিকরা সকলের সহযোগিতা কামনা করি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসা আমার অনুমতি নিয়েই হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তার সাথে যে ঘটনা ঘটেছে, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি। প্রয়োজনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।