প্রকাশিত হয়েছেঃ মে ৯, ২০২৪ সময়ঃ ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা ঘটনার প্রধান মাস্টার মাইন স্বামী সোহেল মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (৮মে) সন্ধ্যায় মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের টঙ্গী রেল স্টেশন এলাকার একটি গেস্টহাউজ থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে প্রধান আসামীর মা সুফিয়া খাতুনকে (৫৭) গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামী সোহেলের খালা মিনারা খাতুন (৬০) ও ভাই দোয়েল মিয়াকে (৩৭) গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ জানায়।
ভালুকা মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. শাহ্ কামাল আকন্দ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নিরুপম নাগ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামীসহ অপরাপর আসামীদের গ্রেফতার অভিযানে নামেন। বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের টঙ্গী রেল স্টেশন এলাকার একটি গেস্টহাউজ থেকে স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামী সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করে। পরে সোহেলকে প্রথমে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলের পাশে একটি ডুবা থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। ঘাতক সোহেল তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং সে জানিয়েছে, তার স্ত্রী পরকিয়ার সাথে জড়ি থাকায় তাকে চাকরি করতে নিষেধ করা হলেও সে তার কথা শুনেনি। এর আগেও সে তার স্ত্রীকে বেশ কয়েকবার হত্যার পরিকল্পনা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তাই তার স্ত্রীকে হত্যার আগে তার ছোট ছেলে সাব্বিরকে আগেরদিন তার নানা বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এবং হেফজ পড়ূয়া বড় ছেলে সানি মাদরাসায় থাকায় স্ত্রীকে খুন করতে তেমন সমস্যা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, ঘাতক সোহেল তার স্ত্রীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে প্রথম স্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘর থেকে লাশটি বের করে নিয়ে প্রথম পুকুর পাড়ে নিয়ে রাখে এবং বাড়ি থেকে একটি ছুরি নিয়ে আবার লাশটি নিয়ে যায় বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে শামিম হোসেনের একটি ধান ক্ষেতে। পরে ভোররাতে তার মৃত স্ত্রীর গলা কেটে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। সোহেলের মুখে দাড়ি থাকলেও পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্র সে তার দাড়ি ফেলে প্রথম চলে যায় খুলনা তার এক বন্ধুর বাড়ি গিয়ে উঠে। কিন্তু তার বন্ধুকে না পেয়ে চলে যায় ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলায়। ওই স্থান থেকে খুবই অল্প সময়ের ব্যবধানে মঙ্গলবার মধ্যরাতে সে চলে আসে ঢাকার গুলশানে। পরে সে সাভার ও আশুলিয়ায় আসে এবং বুধবার দুপুরে সে টঙ্গীর রেল স্টেশন এলাকার একটি গেস্টহাউজে উঠলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৭/১৮বছর পূর্বে উপজেলার পশ্চিম পশ্চিমকাচিনা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আজহার আলীর ছেলে সোহেল রানার সাথে পালগাঁও গ্রামের হাছেন আলীর মেয়ে হাজেরা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। স্বামী সোহেল রানা তাঁর ছোট ভাই দোয়েলের সাথে ঢাকায় বাসের হেলপারি করতো। স্ত্রী হাজেরা খাতুন উপজেলার কাশর এলাকায় টিএম টেক্সটাইল মিলে চাকুরি করতেন। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে পরকীয়া নিয়ে সন্দেহ করতো। পুলিশের ধারণা পরকীয়া সন্দেহেই সোমবার (৬ মে) রাতের কোন এক সময় সোহেল তাঁর স্ত্রীকে দাঁড়ালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে বাড়ির পাশের ধান ক্ষেতে ফেলে রাখে। ঘটনা পর থেকেই হাজেরার স্বামী পলাতক। এ হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে মেয়ে জামাইসহ চারজনকে আসামি করে মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন, নিহতের স্বামী সোহেল রানা (৪০), তাঁর শাশুড়ি সুফিয়া খাতুন (৫৭), দেবর দোয়েল মিয়া (৩৭) ও খালা শাশুড়ি মিনারা খাতুন (৬০)। তাঁদের সবার বাড়ি উপজেলা পশ্চিম কাচিনা গ্রামে।

