প্রকাশিত হয়েছেঃ মে ১৯, ২০২৩ সময়ঃ ১২:৫০ অপরাহ্ণ

Spread the love

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় যৌতুকের দাবিতে মাকসুদা আক্তার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত করেছে তার পাষন্ড স্বামী আনোয়ার হোসেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের সোহাল গ্রামে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন আহত মাকসুদাকে উদ্ধার করে ভালুকা সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
হাসপাতাল বেডে শুয়ে থাকা স্বামীর নির্যাতণের শিকার মাকসুদা আক্তার জানান, দুই পরিবারের সম্মতিতে উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের সোহাল গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেনের সাথে ১৪ বছর আগে তার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে সালমান নামে এগারো বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাছাড়া, গর্ভবস্থায় এবং প্রসবের পর তার আরো তিনটি সন্তান মারা যায়। এদিকে, বিয়ের পরপরই তার সুখের আশায় স্বামীর চাহিদা পুরনে পিতা আবদুল মান্নান পোল্ট্রি করার জন্যে প্রথমে পাঁচলাখ টাকা এবং পরে মাছের চাষ করার জন্যে আরো পাঁচলাখ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে, কিছুদিন পূর্বে ননদ মিনারা খাতুন (৩২) ও ননদের স্বামী এখলাছ উদ্দিনের (৪০) কু-পরামর্শে স্বামী আনোয়ার হোসেন আবারো পাঁচলাখ টাকার যৌতুকের জন্যে মারপিটসহ তার উপর বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন শুরু করে। পরে, নিরুপায় হয়ে তিনি বিষয়টি জানালে তার পিতা আবদুল মান্নান তার স্বামী আনোয়ার হোসেনকে দফায় দফায় আরো দুই লাখ টাকা প্রদান করেন। এদিকে, স্বামী আনোয়ার হোসেন তার দাবিকৃত অবশিষ্ট টাকার জন্যে আন্যান্যদের উপস্থিতিতে গত সোমবার (১৫ মে) বিকেলে তার (মাকসুদা) গলাচিপে, পায়ে পারা দিয়ে ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ওই সময় তার (মাকসুদা) ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্ষা করেন। পরে, মোবাইল ফোনে বিষয়টি পিতৃ পরিবারকে জানানো হলে তারা তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। ওই ঘটনায় বিচার দাবিতে মাকসুদা আক্তার বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তার স্বামী মো. আনোয়ার হোসেন (৩৮), ননদ মিনারা খাতুন (৩২) ও ননদের স্বামী এখলাছ উদ্দিনকে (৪০) আসামী করা হয়েছে।
মাকসুদা আক্তারের বাবা আবদুল মান্নান দাবি করেন, টাকার জন্যে তার মেয়ের উপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি তার মেয়ের উপর নির্যাতনকারীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।
মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করে যোগাযোগ করতে না পারায় অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, ওই ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আই নানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

প্রকাশক ও সম্পাদক

আসাদুজ্জামান (ফজলু)

হাউজ নং: ২০, ফ্ল্যাট নং: বি২, রোড নং: ০৭

সেকশন: ১২, উত্তরা, ঢাকা – ১২৩০

মোবাইল: ০১৭১৮-১৯২৬৮৫, ০১৭৬১-৫৮২৩৩৮

ইমেইল: contact@digontabarta.com