আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৬ নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভান্ডাব গ্রামে। আহতদের ভালুকা সরকারী হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ভান্ডাব গ্রামের মকবুল হোসেনের সাথে ১০ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিবেশি মো: ছলিম উদ্দিন মাষ্টারের ছেলে লুৎফর রহমান লিটন গংদের বিরোধ চলে আসছিলো। এ নিয়ে বেশ কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও কোন সুরাহা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষের মাঝে কথা কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে মকবুল পাঠানের ছেলে আব্দুর রশিদ পাঠান (৫০), দেলোয়ার হোসেন (১৮), তন্বী আক্তার (২৪), দেলোয়ারা খাতুন (৪০), রিফা আক্তার (২৭), রানু আক্তার (৪৫), নাসিমা আক্তার (২৮) ও আছমা আক্তার (৪৫) এবং প্রতিপক্ষ লুৎফর রহমার লিটন (৪৫) ও তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৩৫) আহত হন।
মকবুল হোসেন পাঠানের ছেলে রফিক পাঠান জানান, লুৎফর রহমান লিটন তার বাবার কাছ থেকে ভান্ডাব মৌজার ১২৭১ নম্বর দাগে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু তারা ওই জমি না নিয়ে পাশের ৮৪৭০ নম্বর দাগে জমি দখলের পাঁয়তারা করছিলো। এরই জের হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে লুৎফর রহমান লিটনের নেতৃত্বে ৮/১০ জন লোক দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে জমি দখল করতে আসে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা চালিয়ে বাড়ির বেশ কয়েকজন মহিলাসহ ৭/৮ জনকে আহত করে।
প্রতিপক্ষ লুৎফর রহমান লিটনের বড় ভাই ডাক্তার মুশফিকুর রহমান জানান, তার ভাই লিটন প্রতিবেশি মকবুল হোসেন পাঠানের কাছ থেকে ১০ শতাংশ জমি কেনার জন্য চেকের মাধ্যমে ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর হয়ে গেলেও জমির রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকে। ওইদিন দু’পক্ষের সাথে কথাকাটাকাটি হলে তারা তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীকে মারাত্মভাবে আহত করে। তার ভাইকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।
এ ঘটনায় রফিক পাঠান বাদি হয়ে মুশফিকুর রহমান, মো: লিটন মিয়া, মো: নুর মিয়া, মো: জিহাদ মিয়াসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভালুকা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম জানান, অভিযোগমূলে তদন্তপূর্বক আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।