মুহাম্মদুল্লাহ।।
ইসলামের প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরতে না পারার পেছনে অন্যতম কারণ হলো আলেমদের পিছুটান। একজন আলেম যখন মসজিদের ইমাম হন তখন চাকরি হারানোর ভয়ে ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান নির্দ্বিধায় বলতে পারেন না। কারণ তার চাকরি চলে গেলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। তাই আলেমদের ইসলামের খেদমতের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে হবে। এমনটাই মনে করেন প্রসিদ্ধ ইসলামিক আলোচক মাওলানা শুয়াইব আহমদ আশ্রাফী।
তিনি বলেন, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশের প্রায় সবগুলো মসজিদে কমিটির সদস্যরা হলো সুদখোর। এ কারণেই সুদের বিরুদ্ধে কথা বললে ইমামদের চাকরি থাকে না। মূলত মসজিদের মেম্বার হলো হক কথা বলার প্রকৃত জায়গা। ইমামদের অসচ্ছলতার কারণে চাকরির ভয় থাকে। তারা হক কথা বলতে পারেন না।
মাওলানা শুয়াইব আহমদ আশ্রাফী বলেন, আমি বর্তমানে যে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াই, সেখানে একসাথে পাঁচ-ছয় হাজার মুসল্লী জুমার নামাজ আদায় করে। চার জুমার জন্য ওই মসজিদ থেকে আমাকে এক লাখ টাকা বেতন দেয়। তবুও আমি চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে হক কথা বলা ছাড়ি না। ওই মসজিদ যিনি করেছেন তিনি কয়েকশো কোটি টাকার মালিক। তিনি আমার আলোচনায় বাঁধা দিতে চাইলে আমি বলে দেই আপনারা অন্য ইমাম খুঁজতে পারেন। আমি যতদিন আছি এভাবেই কথা বলব।
শুয়াইব আহমদ আশ্রাফী বলেন, আমি এভাবে হক কথা বলতে পারি তার কারণ হলো আমার পিছুটান নেই। ওই মসজিদ থেকে মাসে দেয় আমাকে এক লাখ। অথচ আমি দিনে কামাই এক লাখ। এ কারণেই হক কথা বলতে গিয়ে আমাকে চাকরির চিন্তা করতে হয় না।
তিনি বলেন, মসজিদের ইমামদের বেতন দেয়া হয় ছয়-সাত হাজার। এই বেতনে তার পরিবার চলবে কীভাবে? অথচ একজন রিকশাওয়ালাও মাসে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা ইনকাম করে। এত কম টাকায় ইমাম খুঁজলে তো আপনারা যোগ্য ইমাম পাবেন না। তাছাড়া যাদেরকে রাখছেন তারাও পরিবার নিয়ে চলতে পারবে না।
মাওলানা শুয়াইব আহমদ আশ্রাফী বলেন, আলেমদের দ্বীনি খেদমতের পাশাপাশি অন্যকোনো পেশার সঙ্গেও সম্পৃক্ত হওয়া উচিত। এতে আলেমদের স্বচ্ছলতা বাড়বে। তখন মসজিদের মেম্বারে বসে চাকরি হারানোর ভয় থাকবে না। শুধু তা-ই নয় নিজের স্বচ্ছলতার সাথে যেই খেদমত হবে সেটা হবে ইখলাসপূর্ণ।