বাংলাদেশের সামর্থ‍্য তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক আয়োজন করেছে এফবিসিসিআই।

শেয়ার করুন :

মোঃ সিরাজুল মনির বিশেষ প্রতিনিধি।।

বাংলাদেশের শক্তি ও সামর্থ্য তুলে ধরার বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এফবিসিসিআই। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাজারের শক্তি বিদেশি বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছে তুলে ধরাই এর মূল উদ্দেশ্য। আগামী ১১ মার্চ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনের এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এফবিসিসিআইর ৫০ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ বিজনেস সামিট আয়োজনের পরিকল্পনা করে। সরকারের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআইকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সম্মেলনের সহ-অংশীদার।

এফবিসিসিআই জানিয়েছে, সম্মেলনে ৯টি দেশের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আসছেন। এসব দেশ হলো– যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, সৌদি আরব, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভুটান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরিশাস। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) উপমহাপরিচালক জিয়াংচেন ঝাং সম্মেলনে যোগ দেবেন। বিভিন্ন দেশের শতাধিক বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। সব মিলিয়ে বিদেশি অতিথি থাকবেন দুই শতাধিক। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতা ও উদোক্তাদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সম্মেলন প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট কেবল এফবিসিসিআইর একার আয়োজন নয়, এই আয়োজনের অংশীদার দেশের সবাই। ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে এফবিসিসিআই এ সামিটের আয়োজন করছে।

এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ। সম্মেলনের মাধ্যমে অর্থনীতি এবং সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোকে বৈশ্বিক ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক, বাজার বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশে উৎপাদিত সেরা পণ্যগুলোকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সামিটের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে ‘বেস্ট অব বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৩’।  এ ছাড়া স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এমন প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোক্তাদের সম্মানিত করা হবে এফবিসিসিআই বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে।

সম্মেলনের আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সহযোগী সিএনএন। সিএনএনের বিজনেস এডিটর-অ্যাট-লার্জ ও বিখ্যাত উপস্থাপক রিচার্ড কোয়েস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নেবেন, যা সিএনএনে প্রচারিত হবে। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আসা অতিথির মধ্যে অনেকের সাক্ষাৎকার নেবেন কোয়েস্ট।

সম্মেলনের কারিগরি ও কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ সমকালকে বলেন, এ আয়োজনের সুনির্দিষ্ট চারটি লক্ষ্য রয়েছে । প্রথমত, বাংলাদেশের অর্থনীতির সাফল্য ও শক্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত, উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে এমন বিনিয়োগের খাতগুলোকে সামনে নিয়ে আসা। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের ব্যবসা পরিবেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উন্নতি বিশ্ববাসীকে জানানো। বাংলাদেশে বেশ কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। সুতরাং কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য এখন আর জায়গার সংকট নেই। এর বাইরে রেগুলেটরি আরও কিছু সংস্কার হয়েছে। শেষত, বৈশ্বিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সংযোগ ও সংলাপ বাড়ানো। তিনি বলেন, এ সম্মেলনের ফলে বাংলাদেশের সক্ষমতা এবং এর বাজার সম্পর্কে বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি সঠিক তথ্য পাবেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের যথাযথ ব্র্যান্ডিং হবে।

জানা গেছে, বিদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধির মধ্যে যাঁরা আসবেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন– সৌদি আরবের বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাবি, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়নবিষয়ক কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী আনে-মারিয়া ট্রেভেলাইন, চীনের বাণিজ্য ভাইস মিনিস্টার (বাণিজ্য) কিউয়ান কেমিং, ভুটানের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী লোকনাথ শর্মা প্রমুখ।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *