ময়মনসিংহে আন্তঃজেলা ডাকাতদল গ্রেফতার ও লুন্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার

শেয়ার করুন :

মোঃ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।।

ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল বাজারে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একদল অজ্ঞাত ডাকাত দুটি জুয়েলারি ও একটি  ফলের দোকানে ডাকাতি করে ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার, ৯০ ভরি রূপার অংলকার, দুইটি মোবাইল সেট ও নগদ ৪,৬২,০০ টাকা লুণ্ঠন করে। ২৬ সেপ্টেম্বর নান্দাইল  মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-১৯। এই ডাকাতির ঘটনায় অন্তঃজেলা  ডাকাতদলকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত হলেন, হাসমত বেপারী ওরফে হাসমত খান ওরফে আচমত আলী খান ওরফে কালাম (৪৩), জসিম উদ্দিন ওরফে মুন্না (৩৯) এবং।  মঙ্গলবার ঢাকার দারুল সালাম থানার দ্বীপনগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে ডাকাত দলের সদস্য হাসমত-এবাদুল-মোশারফ এর আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য  জসিম বেপারী (৩৫), শামছুদ্দিন মোল্লা (৩৫), আসাদুল (২৫), শেখ সুজন (৩৩) কে গ্রেফতার করে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ ১০ অক্টোবরে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।

ডাকাত হাসমত ও মুন্নার দেয়া তথ্যমতে মঙ্গলবার সকালে ৭.১৫ টায় ঢাকা আদাবর থানাধীন সুনিবিড় হাউজিং এর ইকবালের জুয়েলারি দোকান হতে লুন্ঠিত ১১ আনা স্বর্ণাংলকার ও ৭০ ভরি রূপার অংলকার উদ্ধার করে আসামী  ইকবাল হোসেন (৩৫) গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঁঞা জানান,

ডাকাত হাসমত বেপারী ওরফে কালাম মোশারফকে সাথে নিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর তারিখে নান্দাইল থানা এলাকায় শ্বশুর বাড়ীতে বেড়ানোর অজুহাতে এসে রাতভর সিরিজ ডাকাতির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে নান্দাইল বাজার রেকি করে।

ককটেল, ডাকাতির সরঞ্জাম ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র, রশি, লোহার রড, রামদা, সাবল সহ এসে ২৪ সেপ্টেম্বর রাত অনুমান ২.৩০ টায় সময় ডাকাতরা নান্দাইল  বাজারের নৈশ প্রহরায় থাকা ৭ জন প্রহরীকে অবরুদ্ধ করে। ডাকাতরা দুটি জুয়েলারি দোকান ও একটি ফলের দোকানে ডাকাতি করে ১৭ ভরি স্বর্ণাংলকার, ৯০ ভরি রূপার অংলকার, দুটি মোবাইল সেট এবং নগদ ৪,৬২,০০০ টাকা লুণ্ঠন করেছে বলে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃত ডাকাত হাসমত বেপারী (৪৩) ও পলাতক ডাকাত এবাদুল ১৬ জনের ডাকাতদল নিয়ে আসে।ডাকাত হাসমত এর বিরুদ্ধে শরীয়তপুর, ডিএমপি ঢাকা ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন থানায় ৪টি ডাকাতি, ১টি বিস্ফোরক, ১টি অস্ত্র আইন, ১টি চুরিসহ মোট  ১১টি মামলা রয়েছে। পলাতক ডাকাত এবাদুল এর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ ও অস্ত্র আইনের  ১৩টি মামলা রয়েছে। পলাতক ডাকাতদের গ্রেফতার, অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধারের জন্য একাধিক টিম নিরলসভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *