গাজীপুরে স্বামীর উপর্যপুরি ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহত

শেয়ার করুন :

গাজীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক।।
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ছয়দানা মালেকের বাড়ি এলাকায় স্বামীর উপর্যপুরি ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম আনোয়ারা বেগম (৪০)। তিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ঘাতক স্বামী শহিদুলকে গ্রেফতার করেছে গাছা থানা পুলিশ। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত আনোয়ারা গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার বরকতপুর গ্রামের মোন্তাজ শেখের মেয়ে। তিনি দক্ষিণ ছয়দানা হাজির পুকুর পাড় সোলইমান পাটোয়ারীর বাড়িতে দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন। ঘাতক স্বামী শহিদুল একই জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার উত্তর পাটোয়ারা পাতারী পাড়ার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গাছা থানা পুলিশ জানায়, শহিদুল ইসলাম ঢাকায় রিকশা চালাতেন।  আর তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরের ছয়দানা মালেকের বাড়ি এলাকায় ভাড়া থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। শহিদুল প্রায়ই আনোয়ারর বাসায় এসে তার কষ্টার্জিত টাকা কেড়ে নিতেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় শহিদুল জুয়া খেলার জন্য আনোয়ারার বাসায় এসে ১০ হাজার টাকা দাবী করেন। আনোয়ারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় শহিদুল ছেলে শরীফকে (১২) নিয়ে যেতে চাইলে আনোয়ারা বাধা দেন।  এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। আনোয়ারা শহিদুলের কবল থেকে রক্ষা পেতে বাসা থেকে বের হয়ে দৌড়ে পাশের একটি বাসায় আশ্রয় নিতে যান। পথিমধ্যে শহিদুল একপর্যায়ে আনোয়ারার শরীরের বিভিন্নস্থানে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ প্রহরায় গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীনে আছেন।
নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী গাছা থানার এসআই সাফায়েত ওসমান জানান, ঘটনাস্থলে সিআইডি ক্রাইম সিন মানেজমেন্ট টিম এর উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকালে ভিকটিমের হাত, হাতের তালু, কুনই, হাঁটু, গাল, কব্জি,  বুক ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতের ১৫টি চিহ্ন পাওয়া গেছে।
গাছা থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আলামিন শেখ বাদী হয়ে গাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। প্রায় ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনে শহিদুল প্রায়ই আনোয়ারাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *