ভালুকায় অজ্ঞাত কিশোরীর লাশের পরিচয় মিলেছে : সৎ পিতা গ্রেফতার

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরীর (১৫) লাশের পরিচয় মিলেছে। তার নাম মিনু আক্তার। সে কুড়িগ্রাম জেলার ওলিপুর থানার দীঘলআইলা গ্রামের মিলন মিয়ার মেয়ে। তার মায়ের নাম মাহমুদা বেগম। ওই ঘটনায় ওলিপুরের কাছুয়া শেখের ছেলে মিনুর সৎ পিতা শফিকুল ইসলামকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গতকাল শনিবার (২৫জুন) সকালে কুড়িগ্রামের নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
থানা ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম ও পোশাককর্মী মাহমুদা বেগম তাদের আগের স্ত্রী এবং স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তারা কিশোরী মিনু আক্তারকে সাথে নিয়ে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। একপর্যায়ে শফিকুল ইসলাম ব্যবসা করার কথা বলে স্ত্রী মাহমুদা বেগমের কাছে তার আগের কর্মস্থল চট্রগামের একটি কারখানায় পাওনা এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা এনে দেয়ার জন্যে চাপ দেন। কিন্তু, মেয়েকে বিয়ে দেয়ার কথা বলে মাহমুদা বেগম তার ওই টাকা স্বামী শফিকুলকে দিবেনা বলে জানিয়ে দেন। পরে, পাওনা টাকা আনার জন্যে মাহমুদা বেগম গত ৭ জুন চট্রগ্রাম যান। এদিকে, শফিকুল ইসলাম তার স্ত্রীর টাকা পাওয়ার জন্যে বন্ধু রিপনের সাথে পরামর্শ করে পথের কাঁটা মিনুকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে, মায়ের অনুপস্থিতিতে শফিকুল গত ৮ জুন রাতে ঘরে ঘুমন্ত মিনুকে শ^াস রোধে হত্যা করে ভাড়া বাসার পাশের এক জঙ্গলে ফেলে আসেন এবং পরদিন রাতে ওই লাশ একই এলাকায় প্রস্তাবিত একটি কারখানায় বাউন্ডারীর ভিতর মাটির নিচে পুতে রাখেন। এদিকে, মিনুকে চাপা দেয়া মাটি বৃষ্টির পানিতে সরে গিয়ে তার পা বেড় হয়ে আসে। পরে, স্থানীয়রা গত বৃহষ্পতিবার (২৩ জুন) সকালে লাশ দেখে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ওইদিন দুপুরে লাশটি উদ্ধার এবং হত্যা মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে গোপন সূত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কুড়িগ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মিনুর সৎ পিতা শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হেসেন জানান, মিনু আক্তারের সৎ পিতা শফিকুলকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *