আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ির আমতলী এলাকা থেকে শিশু সন্তানসহ হাফিজুল (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণের ৯ দিনেও তাদের সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অজ্ঞাত স্থান থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছোট ভাই মো. মিলন ফকির বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানার চরবলেশ্বর গ্রামের আব্দুল জলিল ফকিরের ছেলে হাফিজুল স্ত্রী নাজমুন নাহার লাইজু ও শিশু ছেলেকে নিয়ে উপজেলার হবিরবাড়ির আমতলী এলাকার কবির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থেকে ফ্যাক্টরীর মালামাল লোড আনলোডের কাজ করতেন। তার স্ত্রী নাজমুন নাহার লাইজু স্থানীয় একটি পোষাক কারখানায় চাকরী করছেন। স্বামী স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য হলে গত ২৩ জুন দুপুরে হাফিজুল তার ১১ বছর বয়সি শিশু সন্তান ইব্রাহিমকে সাথে নিয়ে বাসার মালামাল গাড়িতে করে বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হয়। এসময় বিষয়টি তার স্ত্রীর বড় বোন শাহিনা বেগম মোবাইলে হাফিজুলের বাড়িতে জানায়। এর পর থেকে হাফিজুলের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে একই দিন রাত ৯টার দিকে হাফিজুলের মোবাইল থেকে অপরিচিত ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের জানায় যে, হাফিজুল ও শিশুটিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে অপর একটি নম্বর থেকে ফোন করে তাদের মুক্তি দিতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হাফিজুলকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও হাফিজুল ও তার শিশুপুত্রের কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় হাফিজুলের ভাই মিলন মিয়া বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
হাফিজুলের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম জানান, হাফিজুল ও তার শিশুপত্রকে ৯ দিন ধরে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে মুক্তিপণের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে এবং টাকার জন্যে হাফিজুলকে মারধরও করছে। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেয়া হচ্ছে।
ভালুকা মডেল থানায় এসআই সোহেল রানা জানান, ওই ঘটনায় অভিযেগ পাওয়া গেছে। ভিক্টিম উপজেলার সিডস্টোর এলাকাতেই আছে। তার ফোন নম্বরটি মাঝে মধ্যে খোলে, আবার বন্ধ করে রাখে। তাকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।