রফিকুল ইসলাম খান, গফরগাঁও প্রতিনিধি।।
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে কুরচাই গ্রামের গভীর রাতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে স্বামীকে মারধর করে অস্ত্রের মুখে স্বামীর হাত-পা, চোখ, মুখ বেঁধে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে ফুলবাড়িয়া থেকে ও রাতে শ্রীপুর এলাকা থেকে
পুলিশের পৃথক অভিযানে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন – পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের তললী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মোঃ শাকিল (৩০) ও বেলদিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে হিরন খান (৪০)। তারা দুজনেই এ মামলায় অভিযুক্ত আসামি।
এর আগে শিহাব উদ্দিন নামে মামলায় মূল অভিযুক্তকে গত বুধবার পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে বৃহস্পতিবার তাকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে শাকিল ও হিরন খানকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে বিজ্ঞ বিচারক আগামী ২২ জুন রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ (২০) বিয়ে পর থেকেই স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করেন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে ৭/৮ জনের একটি দল দরজা ভেঙে ওই গৃহবধূর ঘরে ঢোকে। তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধূর স্বামীকে মারধর এবং তার হাত-পা, চোখ ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে পাশের নির্জন জায়গায় দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর বুধবার (১৭ জুন) সকালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় থানায় গিয়ে পুলিশকে বিস্তারিত জানায় ভুক্তভোগী পরিবার। থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা পরিচয় আরও চারজনকে আসামি করে মামলা করেন গৃহবধূর মা রোকেয়া খাতুন।
পাগলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এজাহারনামীয় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হলো। বাকি আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
####