আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় অর্কিড জিওটেক্সটাইল মিল লিমিটেডের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিশাল এলাকা নিয়ে কৃষি ভূমির শ্রেণী পরিবর্তনের মাধ্যমে গভীর গর্ত করে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে আশপাশের এলাকার কৃষি জমির ক্ষতিসহ ভূমি ক্ষয়, মাটিতে ফাটল এবং বসতবাড়ি ধসে পড়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে স্থানীয়দের মাঝে। এ ঘটনায় এলাকাবাসি প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামে অবস্থিত অর্কিড জিওটেক্সটাইল মিল লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পাঁচ একর জমির সীমানা সংলগ্ন এলাকায় ভেকু দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীর করে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। এছাড়া মাটি কাটার ফলে আশপাশের কৃষিজমির পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছাড়া গর্তে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকায় গবাদিপশু ও শিশুদের পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, শিমুলতলী থেকে কাচিনা সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ও আট ফুট প্রসস্থ পাকা সড়কে ৩০ থেকে ৩৫ টন ওজনের মাটিভর্তি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে ফ্যাক্টরিটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে চালু থাকা অবস্থায় পাইলিং ছাড়া ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট কম্পনে আশপাশের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুণরায় চালু হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া জেনারেটরের শব্দ ও কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ মাটি কর্তন কার্যক্রম বন্ধসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট একেএম আমান উল্যাহ বাদল বলেন, ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবেশ আইনে কারাদন্ড, অর্থদন্ডসহ পূণরায় মাটি ভরাট করে ভূমির অবস্থা পূর্বের ন্যায় করে দেয়ারও বিধান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অর্কিড জিওটেক্সটাইল মিল লিমিটেডের কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে বার বার প্রতিকার চাওয়া হলেও তারা কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখছেন। এতে স্থানীয়দের মাঝে আশপাশের কৃষি জমির ক্ষীতসহ ভূমিধসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে অর্কিড জিওটেক্সটাইল মিল লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুস সালাম জানান, ভূমির শ্রেণী পরিবর্তনের বিষয়ে কোন অনুমতি না নেয়ার বিষটি শিকার করেন। তিনি বলেন, মাছ ও হাসের খামার করার জন্য পুকুর খননের কাজ করছেন। স্থানীয় কিছু লোক তাদের ব্যক্তিস্বার্থের জন্য তাদের কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছেন।
এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর স্থানীয় কৃষকদের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: ইকবাল হোসাইন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মাটি খননের বিষয়টি পরিদর্শনের জন্য তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ওই ব্যাপারে কোম্পানীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধিন।