আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় বাবাকে খুনের দায়ে ছেলে মারুফ আহম্মেদ রাব্বি হলেন আসামি। আর সেই মামলার বাদি হলেন তাঁর মা রোকেয়া আক্তার। নিহত মজিবুর রহমান পান্নার (৪৯) লাশ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত শেষে রাতেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। স্বামীকে হত্যার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে একমাত্র ছেলেকে আসামি করে ভালুকা মডেল থানায় হত্যার অভিযোগে শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাতে একটি মামলা করেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মজিবুর রহমান পান্না পরকীয়া করে উপজেলার কাঠালী গ্রামের বাসিন্দা সুর্যত আলীর মেয়ে আছমা আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করে দুইবছর সংসার করে তালাক দিয়ে দেন। পরে পূনঃরায় তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠায় আসমাকে নিয়ে পান্নার প্রথম স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের সাথে প্রায় সময় ঝগড়া হতো। শ্রক্রবার সন্ধ্যায় আছমাকে নিয়ে পান্নার সাথে তার স্ত্রী রোকেয়া ও ছেলে রাব্বির ঝগড়ার মাঝে এক পর্যায়ে রাব্বির হাতে থাকা কাটাকম্পাস দিয়ে পান্নার বুকে ও পিঠে বেশ কয়েকটি আঘাত করে, এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ঘটনার পর ভালুকা হাসপাতাল এলাকা থেকে পুলিশ কলেজ পড়–য়া ছেলে মারুফ আহম্মেদ রাব্বিকে আটক করে। রাব্বি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয় এবং বলে, রাগের মাথায় সে তাঁর বাবাকে কাটাকম্পাস দিয়ে আঘাত করেন। নিহত মজিবুর রহমান পান্না মিরকা হাসিনা বানু উচ্চ বিদ্যালয়ের সহশিক্ষক এবং ৬ নম্বর ভালুকা ইউয়িন যুবলীগের আহবায়ক ছিলেন।
ভালুকা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনার পরপরই বাবাকে খুনের অভিযোগে তাঁর একমাত্র ছেলে মারুফ আহম্মেদ রাব্বিকে আটক করা হয়। রাব্বি তাঁদের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তাঁর বাবা আছমাকে তালাক দেয়ার পর তাঁর সাথে যোগাযোগ ও অবৈধ সম্পর্ক রাখার ঘটনার জেরধরে ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাব্বির হাতে থাকা কাটাকম্পাস দিয়ে তাঁর বাবাকে সে আঘাত করলে তিনি মারাযান। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বলা যাবে পান্না কাটাকম্পাসের আঘাতে না স্ট্রোক করে মারা গেছেন। নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে একজনকে (তাঁর ছেলেকে) আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।