প্রকাশিত হয়েছেঃ জুলাই ২৫, ২০২৩ সময়ঃ ২:১২ অপরাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকা বাসস্ট্যান্ডসহ উপজেলার হবিরবাড়ি এলাকার সিডষ্টোর ও মাস্টারবাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে মহসড়কের জায়গা দখলে নিয়ে কয়েক’শ দোকান বসিয়ে কতিপয় প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংকোচিত হয়ে যানচলাচলে বিঘœসহ পথচারী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপানা উচ্ছেদ করা হলেও সপ্তাহ যেতে না যেতেই প্রভাবশালীরা ওইসব স্থানে পূণরায় দোকান বাসিয়ে দিয়েছেন।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি ফোরলেন সড়কে উন্নীত হওয়ার পর মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজনের দুর্ভোগ লাঘব হয়। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের পাশে বসতে শুরু করেন অস্থায়ী দোকানিরা। যদিও পরে প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে মোটা অঙ্কের জামানতের মাধ্যমে তা স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে। এতে ফোরলেন সড়কের এক লেন করে দুই পাশে যান চলাচল করে। বাকি রাস্তাসহ ফুটপাত দখলে থাকে দোকানি ও ক্রেতাদের। এতে শুরু হয় যানজট। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই তেমন কোনো উদ্যোগ।
উপজেলার সিডস্টোর ও স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দু’পাশে কতিপয় প্রভাবশালীর উদ্যোগে কয়েক’শ দোকানপাট বসিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। মাছ, গোস্ত, শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন প্রকার ফলের দোকান বসানো হয়েছে মোটা অঙ্কের জামানত নিয়ে। এমনকি দোকান প্রতি দৈনিক চার থেকে পাঁচ’শ টাকা। দোকানি, ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সিডস্টোর বাসস্ট্যান্ড ও স্কয়ার মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কতিপয় প্রভাবশালীর নেতৃত্বে কয়েক’শ অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে রাস্তাটি সরু হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রতিদিনই বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থেমে থেমে যান চলাচল করে। অনেক সময় রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। উপজেলার ৮০ ভাগ শিল্পকারখানাই সিডস্টোর ও মাস্টারবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। ফুটপাতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় থাকায় সন্ধ্যার পর শ্রমিকদের বাসায় ফিরতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার সর্তে জানান, মাস্টারবাড়ি এলাকায় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কয়েক’শ দোকান বসিয়ে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা। ২১ জুন সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে নাসির গøাস কারখানা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশ থেকে তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও সপ্তাহ যেতে না যেতেই ওই প্রভাবশালীরা পূণরায় দোকানপাট বসিয়ে পূর্বের ন্যায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মাঝে মধ্যে স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও দোকানপাট বসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ওই সকল প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় আবারো তাদের ওই অবৈধ কার্যক্রম চালাতে কোন সমস্যা হচ্ছেনা।
ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ নয়া দিগন্তকে বলেন, গত ঈদের আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহাসড়কের মাস্টারবাড়ি এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে আবারো ওই সকল স্থানে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ইউএনও স্যার ট্রেনিংএ আছেন, তিনি আসলে পূণরায় অভিযানের মাধ্যমে স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

