প্রকাশিত হয়েছেঃ জুলাই ২৩, ২০২৩ সময়ঃ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় নির্মাণাধীন কারখানার গ্যাস সংযোগ রুম (আরএমএস) ভাংচুর, মালামাল লুট ও একাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ। অপরদিকে, মায়ের নামের জমিতে ভাউন্ডরী ওয়াল নির্মানে বাধা, মালামাল লুট ও হত্যার চেষ্টায় একাধিক রাউন্ড গুলির ঘটনায় দু’পক্ষের অভিযোগেই আলাদা মামলা হয়েছে।
আবদুল্যাহ বিন মনিরের মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি মৌজায় হবিরবাড়ি মৌজার ৮৩৯ নম্বর দাগে তাদের মায়ের ২৭ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিলো। ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) সকালে আবদুল্যাহ বিন মনির লোকজন নিয়ে তাদের জমিতে সিমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ একদল লোক বাধা দিয়ে গালমন্দ শুরু করে। ওই সময় এর প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষরা দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ এলোপাথারী গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরে প্রাণ রক্ষায় তারা পালিয়ে আসেন। পরে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণের জন্য নেয়া দুই টন রড ও ৩০ বস্তা সিমেন্ট প্রতিপক্ষরা নিয়ে যায়। একই সময় তারা তাদের বাড়ির গেইট বাউন্ডারী, বাড়ির ভাড়াটিয়াদের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এ ঘটনায় উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে আবদুল্যাহ বিন মনির বাদি হয়ে গত শুক্রবার (২১ জুলাই) রাতে সালাউদ্দিন সরকার, শারফুল মিয়া, বাবু সরকার, কামরুল ইসলাম, সোহেল আকন্দ, সাহেব আলী, আবদুর রহমান ও আতাউর রহমান, নুর আলম ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম উল্লেখসহ আজ্ঞাত আরো ২০-২৫ জনকে আসামী কওে মামলা করেন।
এদিকে, নির্মানাধিন ন্যাশনাল পলিমার লিমিটেড কারখানায় সিনিয়র অ্যাডমিন শাহরিয়ার পারভেজের দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার আসামীরা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের জামিরদিয়া গ্রামে নির্মানাধিন ন্যাশনাল পলিমার লিমিটেড কারখানায় দীর্ঘ দিন যাবৎ চাঁদা দাবি ও কারখানায় ক্ষতি সাধনের পাঁয়তারা করে আসছিলো। এরই, ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) ঘটনার দিন সকালে ৮০-৯০জনের একটি স্বশস্ত্রদল জামিরদিয়া গ্রামে নির্মাধিন ওই কারখানায় প্রবেশ করে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না পেয়ে কারখানার আরএমএস বিল্ডিং, ক্যানটিন ঘরে ভাংচুর চালিয়ে ক্ষতি সাধন করে এবং গ্যাস সংযোগের মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। ওই সময় কারখানার সিকিউটি গার্ড ও শ্রমিকগণ এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি, ককটেল ছুড়ে আতংক সৃষ্টি করে এবং খুন জখমের ভয় দেখিয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় নির্মানাধিন ন্যাশনাল পলিমার লিমিটেড কারখানায় সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (প্রশাসন) শাহরিয়ার পারভেজ বাদি হয়ে সোহাগ, নিপুন, আলমগীর হোসেন, ডালিম, মুর্শেদ, বাবু, দ্বীপ সরকার, দেলোয়ার হোসেন, নাঈম, উত্তম, আমিনুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৭০-৮০ জনকে আসামী করে শনিবার (২২ জুলাই) রাতে ভালুকা মডেল থানায় অপর মামলাটি করেন।
ভালুকা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুই পক্ষ থেকে দায়েরকৃত অভিযোগে পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের অভিযান চলছে।

