প্রকাশিত হয়েছেঃ জুন ৯, ২০২৩ সময়ঃ ১২:৪১ অপরাহ্ণ
আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকা ও উথুরা রেঞ্জের আওতায় হবিরবাড়ি, মেহেরাবাড়ি, কাদিগড়, পাড়াগাঁও, গৌরিপুর, মনোহরপুর, মল্লিকবাড়ি, ডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক,শ কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি দখলে নিয়ে ফ্যাক্টরীর সীমানাপ্রাচীর, বহুতল ভবন, বসতবাড়ি ও মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কতিপয় প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় বনবিভাগের অসাধূ ব্যক্তিদের সাথে যোগসাজশ করেই প্রকাশ্যে এসব নির্মাণকাজ চলছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি মৌজায় ৯ নম্বর দাগে সিডষ্টোর বাজার এলাকায় বনের গেজেটভূক্ত জমিতে জয়নাল ও অজিত কর্মকার নামে দুই ব্যক্তি বহুতল ভবন, একই দাগে আউলাতলী রোডে আফাজ উদ্দিন তালুকদার ও মাহবুব মাস্টার ৫ তলা বাড়ি এবং সাথেই আব্দুল লতিফ নির্মাণ করছেন তিনতলা বাড়ি। পাশের ১৯ নম্বর দাগে টিনের বেড়া দিয়ে ভিতরে পাকা দালান নির্মাণ করে জমি জবরদখল করছে এ টায়ার নামে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। এর আগেও ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া একই দাগে হামিদ গ্রæপ প্রায় শত কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি জবর দখল করে সীমানা প্রাচির নির্মাণ করে বহুতল বভন নির্মাণ করছেন। পাশেই একই দাগে হারুন নামে এক ব্যাক্তি নির্মাণ করছেন বহুতল ভবন। হবিরবাড়ি মৌজার ১৭০ নম্বর দাগে বনের জমিতে মনিরুজ্জামান মনির নির্মাণ করছেন ৬ তলা বাড়ি। এছাড়াও ঝালপাজা রোডে ১৮৫ নম্বর দাগে রেপন খান নির্মাণ করছেন ৬ তলা বাড়ি, ৭৭৮ দাগে মোবারক হোসেন, জালাল উদ্দিন, ১১০ দাগে চানুমিয়া শহিদ, হারুন, জসিমসহ একাধিক ব্যাক্তি নির্মাণ করছেন বসতবাড়ি ও মার্কেট। হবিরবাড়ি মৌজার ৮২৯ নম্বর দাগে ন্যাশনাল পলিমার কোম্পানী বনভূমি দখলে নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনার কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের ধামশুর মৌজায় ১২১৭ দাগে আসাদুল নামে এক ব্যাক্তি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ করছেন। এদিকে কাদিগড় বিটের আওতায় পাড়াগাঁও মৌজার ২৯০ ও ২২৭ নম্বর দাগে লাউতি খালের পাড়ে এ্যাক্সিলেন্ট সিরামিক্স কোম্পানী প্রায় সাড়ে ৯ একর জমি দখলে নিয়ে বহুতল ভবণ নির্মাণের চেষ্টা করলে বনবিভাগ কোম্পানীর মালিক, জেনারেল ম্যানেজার ও অ্যাডমিনের বিরুদ্ধে বনআইনে মামলা দিয়েছেন বলে কাদিগড় বিট কর্মকর্তা জানান। একই মৌজার ৩০৯ নম্বর দাগে মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে শহিদুল ইসলাম নামে এক নিরীহ ব্যক্তিকে ভেতরে আবদ্ধ করে এনডিই স্টিল মিলের পক্ষে কোটি টাকা মূল্যের এক একর বনভূমি দখলে নিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মান করেছেন। একই দাগে ৪৮৩ নম্বর দাগে কযেক কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি দখলে নিয়ে ডিবিএল কোম্পানীর নামে স্থানীয় সোহাগ ও জুয়েলের নেতৃত্বে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভালুকা পৌরএলাকা, জামিরদিয়া মাষ্টারাবাড়ি ও সিডষ্টোরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪০ টি ভ্যাকো ও দুই শতাধিক ড্রাম ট্রাক রয়েছে। আর ওইসব ভ্যাকো ও ড্রামট্রাক দিয়ে দিনরাত নিয়ম বহির্ভূতভবে বনবিভাগের উচু টিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমির শ্রেণী পরিবর্তণ করে চলেছে একটি সিন্ডিকেট। স্থানীয়রা জানান, মনিরুজ্জামান মনির ওরফে বনখেকো মনির, মাহবুবুল আলম ওরফে টুপি আলম, জাহাঙ্গীর, ২ টি, মোহর আলী, মনির হোসেন, মোকলেছ, খাইরুল সুজন, উজ্জল মিয়া ও রুবেলের দুটি করে এবং কাদির ড্রাইভারের ৪টি, শামীমের ৫ টি, মকিউর রহমান মতির (বর্তমান ইউপি মেম্বার) ৪ টি ও নজরুল এবং নুরুদ্দিনের একটি করে ভ্যাকো ও বেশ কয়েকটি করে ড্রামট্রাক রয়েছে। আর এসব অসাধূ ব্যক্তিরা স্থানীয় বনবিভাগকে ম্যানেজ করে তাদের ভেকু ও ড্রামট্রাক দিয়ে উচু টিলা কেটে নিয়ে সন্ধার পর থেকে সারারাতব্যাপি মাটি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
উপজেলার গৌরিপুর এলাকায় ফিনিক্স কোম্পানীর ভেতর বনবিজ্ঞপ্তিত উচু টিলা কেটে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাটির ব্যবসা করছেন স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার শাহাদত ও মজিবর সরকার। এতে ওই এলাকার রাস্তাসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা ও পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে ও ধুলোবালিতে একাকার হয়ে জনসাধারণের বসবাসসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, বন বিভাগের সাথে কথা বলেই প্রভাবশালীরা তাদের নির্মান কাজ করছেন। বনবিভাগের লোকজনের সাথে যোগাযোগ না করে বনের জমিতে একটি ইটও গাঁথা সম্ভব না। তাছাড়া ভ্যাকো মালিকদের সাথে বনবিভাগের লোকদের নিবিড়
হামিদ গ্রেæাপের অ্যাডমিন ম্যানেজার শাহজাহান নোমান আকন্দ জানান, বনের সাথে জামেলা রয়েছে। তারা মামলায় ডিগ্রী পেয়েই কাজ করছেন।
একটি সূত্রে জানা যায়, বনভূমি উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয় দখলকারীদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় মারপিট ও ভাংচুরের অভিযোগে ময়মনসিংহ দক্ষিণ অঞ্চলের সহকারী বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদ, ভালুকা রেঞ্জকর্মকর্তা রইছ উদ্দিন (সাবেক) ও বিট অফিসার আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ বিজ্ঞ সিনিয়র আদালতে একটি মামলা ও ভালুকা মডেল থানায় আরো একটি মামলা হয়েছে। একটি মামলা শিল্প পুলিশ জোন ৫ এর ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান তদন্ত করছেন অপরটি থানা পুলিশ তদন্ত করছেন। মামলা হওয়ার পর থেকে বনবিভাগ দখলিয় জমি উদ্ধারে গিয়ে দু’একটি অভিযান করলেও তা লোক দেখানো বলে স্থাণীয়দের অভিযোগ।
উপজেলার কাদিগড় বিট অফিসার ফিরোজ আল আমিন জানান, পাড়াগাঁও মৌজার ২৯০ ও ২২৭ নম্বর দাগে লাউতি খালের পাড়ে এ্যাক্সিলেন্ট সিরামিক্স কোম্পানী প্রায় সাড়ে ৯ একর জমি দখলে নিয়ে বহুতল ভবণ নির্মাণের চেষ্টা করলে বনবিভাগ কোম্পানীর মালিক , জেনারেল ম্যানেজার ও অ্যাডমিনের বিরুদ্ধে বনআইনে মামলা দিয়েছেন। এমনকি আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার মামলা করেছেন। তাছাড়া পাড়াগাঁয়ে এনডিই স্টিল কোম্পানীর দখলে নেয়া জমি উদ্ধারে মামলাসহ উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধিন।
ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ি বিট কর্মকর্তা আশরাফুল আলম খান জানান, তিনি হবিরবাড়ি স্টেশনে সম্প্রতি যোগদানের করেছেন, এসব বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা ও এসিএফ সারের সাথে কথা বলেন।
ভালুকা রেঞ্জকর্মকর্তা মো: হারুন অর রশিদ জানান, হবিরবাড়ি মৌজার ১৯ নম্বর দাগে হামিদ গ্রæপ বনবিভাগের দাবিকৃত কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালালে, তাতে বাঁধা দেয়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আদালতে একাধিক মামলা চলমান আছে। পাড়াগাঁও মৌজার ৩০৯ দাগে এনডিই স্টিল কোম্পানী কর্তৃক দখলকৃত জমিসহ সিমানাপ্রাচীর উচ্ছেদের বিষয়ে আইনী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

