ভালুকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোম্পানীর সাইনবোর্ড টানিয়ে জলাশয় ভরাটের অভিযোগ

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলার গোয়ারী গ্রামে উইন্ডি গ্রুপের সাইনবোর্ড টানিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম রিপনের বিরুদ্ধে স্থানীয়  গারোইল ও দোইল্লা ভরাটের  অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারী খাস জমি বেহাতসহ মাটি আনা নেয়ার কারণে কাঁচা পাকা সড়কের ক্ষতিসহ ধূলোবালিতে এলাকার পরিবেশ হুমকীর মুখে পড়েছে। তাছাড়া ড্রামট্রাকে মাটি বহনের কারনে একটু বৃষ্টিতেই ভালুকা গফরগাও সড়ক কাদায় একাকার হয়ে যানচলাচলের অযোগ্য হয়ে সড়কে জীবনের ঝুকি নিয়ে পথচারিদের চলাচল কনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম রিপন ও শহিদুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে গারোইলেরটেক ভিটার বেশ কয়েকটি বাড়িসহ গারোইল ও দোইল্লা বিল থেকে ১৫০ বিঘা জমি ক্রয় করে উইন্ডি গ্রæপের সাইনবোর্ড টানিয়ে ফসলি জমি ও সরকারের খাসভূমি অবৈধভাবে ভরাট করা হচ্ছে। কোন অনুমতি ছাড়াই প্রায় এক মাস ধরে শতাধিক ড্রাম ট্রাক ও ভেকু দিয়ে পাশের চান্দরাটি গ্রামের বাজাইল বিলের খাস জলাশয়ের মাটি কেটে নিয়ে বিল দু’টি ভরাট করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকাবাসি জানান, বাজাইল বিলটিতে সাড়ে ১৩ একর সরকারী খাস ভূমি রয়েছে। আর ওই খাসভূমিসহ বিলের জমি লিজ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মাইদুল ইসলাম সাত বছর ধরে মাছের চাষ করে আসছিলেন। আর ওই বিলের খাস ভূমি থেকে প্রতি ট্রাক ৭০০ টাকা হিসেবে মাটি ক্রয় করে বাজাইল বিলের খাস জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। এতে সরকারী খাস জমি বেহাতসহ মাটি আনা নেয়ার কারণে ভালুকা-গফরগাঁও হাইওয়ে সড়ক, ভালুকা বিরুনীয়া ও বাওয়া কংশেরকুল পাকা রাস্তাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁচা রাস্তার মারাত্মক ক্ষতিসহ গোয়ারী, চান্দরাটি, মাহমুদপুর, বাওয়ালিয়াবাজু ও টুংরাপাড়াসহ আশপাশের এলাকাগুলো ধূলোবালিতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
গোয়ারী গ্রামের জমির মালিক ফজলুল হক জানান, তিনি কোন জমি বিক্রি করেননি। কিন্তু প্রভাবশালীরা তার ১৪ শষতাংশ জমি মাটি ভরাট করে দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।
বাজাইল বিলের মাছ চাষি মাইদুল ইসলাম জানান, তিনি বিল শুকিয়েছেন পাড় সংস্কারের জন্য। উইন্ডি গ্রæপ তাদের নিজস্ব খরচে তার খামার খনন করে মাটি নিচ্ছেন। তবে রাস্তার ক্ষতির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।
অভিযুক্ত আবদুল কাইয়ূম রিপন জানান, উইন্ডি গ্রæপের হয়ে তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি কিনে ক্রয়কৃত জমি ভরাট করছেন। তাছাড়া বিলের অধিকাংশ জমিই তাদের বলে জানান।
স্থানীয় চেয়ারম্যান শামছুল হোসাইন জানান,  উইন্ডি গ্রুপের সাইনবোর্ড টানিয়ে অনুমোদনহীন ভাবে বাজাইল বিলের সরকারী খাস জমি থেকে মাটি নিয়ে  গারোইল ও দোইল্লা বিল ভরাট এবং একাধিক কাঁচা পাকা রাস্তা নষ্টের বিষয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলা হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোমাইয়া আক্তার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বিল ভরাটের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। যেহেতু জলাশয় ভরাটের কোন নিয়ম নেই, তাই খোঁজ নিয়ে ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *