ভালুকায় রমজানেও পিডিবিও পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং : চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় পিডিবি ও পল্লীবিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে ভ্যাপসা গরমে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীসহ সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। বিশেষ করে এই রমজানে ইফতার ও সাহরির সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোজাদারগন বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ার কারণে প্রতিদিনই লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ জানান।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ভালুকা পৌরএলাকাসহ সর্বত্রই অব্যাহতভাবে লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ থাকলেও এমন লো-ভোল্ডেজ দেয়া হচ্ছে যে, ফ্রিজ, ফ্যান এমনকি পানি তোলার ছোট মোটর পর্যন্ত ঘুরছেনা। ছোট ও মাঝারী ব্যাবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যৎতের লোডশেডিং ও লো-ভোল্ডেজ দেয়া হচ্ছে বেশি। দিনে এমনকি রাতে বেশ কয়েকবার লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যায় ইফতারের সময় ও সাহরির সময়েও বিদু্যুৎ লোডশেডিং দেয়া হয়ে থাকে। গ্রাম এলাকার গ্রাহকরা জানান, গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় রয়েছে পল্লীবিদ্যুৎ। বিভিন্ন অযুহাতে গ্রামাঞ্চলে বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। আর তার সাথে সাথে যতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকে তার বেশিরভাগ সময়ই লো-ভোল্ডেজের কারণে বাসা-বাড়ির পানি উঠানোর মোটর, ফ্রিজ এমনকি পাওয়ার লাইট পর্যন্ত জ্বলছেনা।
একাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, বর্তমানে ভালুকায় বিদ্যুতের চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ সমস্যার সমাধানও পাওয়া কঠিন। কার কাছে অভিযোগ করবে, সে জায়গাও নেই। এখন দেশের যে পরিস্থিতি প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেনা কেউ। নিরবেই হজম করতে হচ্ছে এই নির্মমতা। বিশেষ করে এই রমজানে ইফতার ও সাহরির সময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোজাদারগন বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সূত্রে জানা যায়, ভালুকা পৌরএলাকায় সারা বছরই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা থাকলেও  রহস্যজনক কারণে পৌরএলাকাতেও ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা লোডশেডিং ও লো ভোল্ডেজের কবলে পরে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ফলে চরম ভোগান্তিতে আছেন পৌরবাসি।
ভালুকা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী এজেডএম আনোয়ারুজ্জামান জানান, ভালুকায় গ্রাহক সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩১ হাজার। আর বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৮ মেগাওয়াট। তবে প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না থাকায় লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। গ্যাসের প্রেসার কম থাকার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঠিকঠাক মতো না হওয়ায়ও লোডশেডিং এর কারণ বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ জানান, বিদ্যুৎ সমস্যাটি ময়মনসিংহ জোনেই। ভালুকা, শ্রীপুর, গফরগাঁও ও ত্রিশাল এই চার উপজেলায় তাদের মোট গ্রাহক রয়েছেন সাড়ে চার লাখ। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ভালুকায় চাহিদা রয়েছে ১১৩ মেগাওয়াড কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৬৫ মেগাওয়াড।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করা যাবে না!!