ব্রয়লার মুরগি ও নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেটকারীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি ক্যাবের।

শেয়ার করুন :

মোঃ সিরাজুল মনির বিশেষ প্রতিনিধি।।

যেসব অসাধু ব্যবসায়ী ব্রয়লার মুরগির বাজারে সিন্ডিকেট তৈরিকরে হাজার কোটি টাকা লুন্ঠন করেছে তাদেরকে আইনেরআওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে কনজুমারসএসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। অন্যথায় সারাদেশেমানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সভা করা হবে বলেও হুশিয়ারিদেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ব্রয়লারমরগিরসহ নিত্য পণ্যের কারসাজিতে দায়িদের শাস্তির দাবিতেএক মানববন্ধনে সরকারের প্রতি এ দাবি জানান ভোক্তারঅধিকার নিয়ে কাজ করা এই সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেনক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির সহ সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন,  ক্যাবের সাধারণ সম্পাদকএডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, সিপিবির কেন্দ্রিয় সাধারণসম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিকসমাজের আহবায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় তরুন সংঘের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: ফজলুল হক ও ন্যাপের সংগঠনিক সম্পাদক মিতা রহমান প্রমুখ। এসময় ক্যাবের অন্যান্য সদস্যএবং সাধারণ ভোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্রয়লারমুরগির বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরাভোক্তাদের পকেট কেটে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।  এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতেহবে। শুনেছি প্রতিযোগিতা কমিশনে সিন্ডিকেট তৈরিকারীকরপোরেট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।  তবেমামলার মেরিট কোন দিকে যাচ্ছে, ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়েআমরা সন্দিহান আছি। আমার চাই বাংলাদেশ প্রতিযোগিতাকমিশনের এ বিষয়ে পরিষ্কার করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, ব্রয়লার মুরগির সিন্ডিকেট যারা করেছেতাদের নাম সরকারের কাছে পৌছেছে।  এখন সরকারেরসদিচ্ছা যদি থাকে তবে এদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতেপারবে।

নাজের হোসাইন বলেন,  আমাদের দাবি একটাই,  যারা ব্রয়লারমরগিরসহ নিত্য পণ্যের কারসাজিতে দায়ি তাদের বিরুদ্ধেকঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনাহোক। প্রতিকী মামলা দিয়ে যেন পার পাইয়ে দেওয়া না হয়।

হুশিয়ার দিয়ে তিনি বলেন,  এই মানববন্ধনের পর যদি সরকারব্যবস্থা না নেয় তবে ক্যাবের পক্ষ থেকে সারাদেশে প্রতিবাদসমাবেশ,  মানববন্ধন করা হবে।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়াবলেন, এই রমজান মাসে সংযম করার কথা, কিন্তু তারা তা নাকরে ভোক্তাদের পকেট কেটে হাজার কোটি টাকা হাতিয়েনিয়েছে।  আমরা ক্যাবের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দাবিজানাতে চাই,  যারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তার কষ্টের টাকালুন্ঠন করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতেহবে।

সিপিবি এর সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সবলেন, ব্রয়লার মুরগি বাংলাদেশের বাজারে অনেক চেহারাউন্মোচন করে দিয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণঅধিদপ্তর এর আগে প্রমাণ করে দিয়েছে একটি ব্রয়লার মুরগিরউৎপাদন করতে কতো টাকা খরচ হয় এবং বাজারে কতো টাকাবিক্রি হয়। এই একটা ঘটনার মধ্যে দিয়ে কি পরিমাণ টাকালুটপাট করেছে তা আমরা বুঝলাম। সরকারের সংস্থায়ই এটাপ্রমাণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ব্রয়লার মুরগির আড়ালে চিনি সিন্ডিকেটআড়াল হয়ে গেলো, ব্রয়লার মুরগি আড়ালে বড় বড় ব্যবসায়ীসিন্ডিকেট আড়াল হয়ে গেলো। তাদের অনেকই ব্রয়লার মুরগীনিয়ে  আজ কথা বলছেন কিন্তু নিজের লুটপাটের কথা বলছেননা। আমি পরিষ্কার বলতে চাই- রমজান মাসে মানুষকে কষ্টদিয়েন না। নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে ব্যবস্থা গ্রহন করুন।

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিনআহমেদ বলেন, রমজানের এক মাস পূর্বেই জাতীয় ভোক্তাঅধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনট্যারিফ কমিশন খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবংবিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মিলে বহু বৈঠক অনুষ্ঠিত করে। কিন্তু এসকল বৈঠকে ব্যবসায়ীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করেনিউল্টো কর অসুবিধা নিয়ে তাদের নিজেদের আখেরগুছিয়েছেন। একশ্রেণীর অতি মুনাফা খোর মজুদার ওকর্পোরেট সিন্ডিকেট কারীরা হাজার হাজার কোটি টাকাজনগণের পকেট থেকে লোপাট করল। প্রতিযোগিতা কমিশনতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেও এখন পর্যন্ত সেই মামলা আলোরমুখ দেখছে না। আজ পর্যন্ত বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার দায়েএকজন ব্যবসায়ী বা কার সাথে কারীদের কাউকে গ্রেফতারকরা হয়নি।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *