গাজীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক।।
গাজীপুরে নব্বই এর ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে শনিবার দুপুরে এক বিশাল পদযত্রা নগরির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করে। অপরদিকে একই সময় পুলিশের বাধায় গাজীপুর মহানগর বিএনপির পদযত্রা পদসমাবেশে পরিণত হয়। বিএনপির পদযাত্রার এসব কর্মসূচী পণ্ড করতে বিএনপি কার্যালয়ের অদূরে বেশ কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়।
বিএনপির শান্তিপদযাত্রা বাস্তবায়নে ৯০ দশকের ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে শনিবার দুপুর ১২টায় নগরীর জজকোর্ট এলাকা থেকে একটি বিশাল পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রাটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে মধ্য ছায়াবিথী জোড়পুকুরপাড় এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম শামীমের সভাপতিত্বে এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিটি কাউন্সিলর হান্নান মিয়া হান্নুর সঞ্চালনায় সেখানে বক্তব্য দেন, সাবেক ভিপি ও টিভি অভিনেতা আশরাফ হোসেন টুলু, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি সরাফত হোসেন খান, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ভাট, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বশির আহাম্মেদ বাচ্চু, হুমায়ূন কবির রাজু, সাবেক ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার, সাবেক জিএস নাসিমুল ইসলাম মনির, সিটি কাউন্সিলর তানভীর হোসেন, কোনাবাড়ি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি রবিউল আলম রবি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক খান ও জাসাস গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক কৌশিক আহাম্মেদ প্রমুখ। সম্প্রতিককালে গাজীপুর মহানগর বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটির নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে প্রকাশ্যে এ আলাদা কর্মসূচী পালিত হলো।
গাজীপুরে পুলিশের বাধায় বিএনপির পদযাত্রা পদসমাবেশে পরিণত ঃ গাজীপুরে পুলিশী বাধায় বিএনপির পদযাত্রা পদসমাবেশে রূপ নেয়। গণতন্ত্র পুন:রুদ্ধার আন্দোলনের অংশ হিসেবে কেন্দ্র ঘোষিত ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শনিবার বেলা ১১টায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী সফল করতে মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীরা নগরীর রাজবাড়ি রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন। এসময় পুলিশ বিএনপি দলীয় কার্যালয় ঘেরাও দিয়ে কয়েক স্তরের বেষ্টনি দিয়ে অবস্থান নেয়। পুলিশের এ বেষ্টনি বেদ করে পদযাত্রা বের হতে চাইলে পুলিশ মারমুখো হয়ে উঠে। অবশেষে পুলিশের বাধায় বিএনপির এ পদযাত্রার কর্মসূচি পদসমাবেশে রূপ নেয়।
এসময় পুলিশের বেষ্টনির সামনে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র সদস্য মীর হালিমুজ্জামান ননির সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ শওকত হোসেন সরকারের সঞ্চালনানায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্ট্রার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাক্তার মাজহারুল আলম।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির নেতা আহমেদ আলী রুশদি, অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, মোঃ সুরুজ আহমেদ, আকম মোফাজ্জল হোসেন চেয়ারম্যান, মাহাবুবুল আলম শুক্কুর, হাসান আজমল ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম খান বিকি, মোঃ আব্দুর রহিম খান কালা, প্রভাষক বশির উদ্দিন, মোঃ মনিরুল ইসলাম, মোঃ মনিরুল ইসলাম বাবুল, খন্দকার আলী হোসেন, মোঃ সাইফুল ইসলাম টুটুল, মোঃ শফিউদ্দীন শফি, মোহাম্মদ তানভীর সিরাজ, এইচ এম সিরাজ, মোঃ ইদ্রিস আলী, মোঃ সাজেদুল ইসলাম, মোঃ শাহাদাত হোসেন শাহিন, মাহমুদ হাসান রাজু, গাজী সালাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, মোঃ আসাদুজ্জামান নূর, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, জিএস অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ আক্তার হোসেন, মোঃ আব্দুর রহিম মাতাব্বর, মোঃ বাবুল হোসেন, মোহাম্মদ আতাউর রহমান, মোঃ মোস্তফা জামান খোকন, মোঃ খোকন বিশ্বাস, সিরাজুল ইসলাম সাথী, রুহানুজ্জামান শুক্কুর, মাহমুদ হাসান মিরন প্রমুখ।
পুলিশি বাধার মুখে পদযাত্রা করতে না পেরে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব ব্যারিস্ট্রার মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ নিরব পদযাত্রা কর্মসূচিতেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে । এই সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই বলেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ দিয়ে বাধা প্রয়োগ করছে।
এদিকে বিএনপির এসব কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি অফিসের অদূরে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জড়ো হয়। এসময় তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অফিসের মাঝামাঝি রাজবাড়ি রোডের কেবির মার্কেট বরাবর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তাৎক্ষনিক ওই এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারিরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে।
গাজীপুর মেট্রো সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ জিয়াউল ইসলাম জানান, দুই দলের পান্টাপাল্টি কর্মসূচির ফলে পরিবেশ একটু উত্তপ্ত ছিল। ফলে পরিবেশ শান্ত রাখতে কাউকেই সড়কে নামতে দেওয়া হয় নাই। তিনি ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেন।