১৭ বছর পর গাজীপুর থেকে র‌্যাব-১৪ হাতে গ্রেফতার হলো সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল কুদ্দুস

শেয়ার করুন :

মোঃ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে মস্তকবিহীন দেহ এবং টাঙ্গাইলের নাগরপুর থেকে খন্ডিত মস্তক উদ্ধারের ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তন করে ১৭ বছর যাবৎ পলাতক আব্দুল কুদ্দুস (৪১) কে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আব্দুল কুদ্দুস টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার ভাবনাপাড়া এলাকার  সামসুল হক বেপারীর ছেলে।

শনিবার ( ২৮ জানুয়ারি) বিকাল আনুমানিক ৫টায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন বহেরার চালা এলাকা হতে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১৪।

উল্লেখ্য যে, ২০০৬ সালের মে মাসে অজ্ঞাতনামা আসামীরা মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানাধীন বেতুলিয়া গ্রামে এক ব্যাক্তিকে হত্যা করে নিহত ব্যক্তির পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে তার মাথা কেটে নিয়ে অন্যত্র ফেলে দেয়। উক্ত ঘটনায় গত ২১/০৫/২০০৬ খ্রি. তারিখ মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার এসআই মোঃ আঃ জলিল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং- ০৪, তারিখ- ২১/০৫/২০০৬ খ্রি., ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড- ১৮৬০। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ জনকে আসামী করে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০০৪ সালে ধামরাই থানাধীন গোয়াড়ীপাড়ায় একটি অফিস ভাড়া নিয়ে ‘বাংলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ নামক একটি সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তারা। সঞ্চয়, ঋণদান এবং ফিক্সড ডিপোজিট কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো। প্রতিষ্ঠানে লাভের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছিলো এবং একসময় তাদের একাউন্টে সদস্যদের সঞ্চয়ের বেশকিছু টাকা জমা হয়। সেই টাকা ও প্রতিষ্ঠানটির লোভে আসামিরা শহিদুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে।পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শহীদুলের সঙ্গে আসামিরা গভীর সম্পর্ক তৈরি করে। ঘটনার পূর্বে আসামি কুদ্দুস টাঙ্গাইলের সন্ত্রাসী রাজা মিয়াকে নিয়ে ভিকটিমকে হত্যার পূর্ণ ছক আঁকে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার ২০ মে ২০০৬ তারিখ আসামি শাহিনের জন্য পাত্রীর দেখতে যাওয়ার কথা বলে বন্ধু শহিদুলকে মাইক্রোবাসে তুলে। সন্ত্রাসী রাজা মিয়াসহ আসামি সাহেদ, কুদ্দুস, বিষ্ণু সুইপার রশি দিয়ে গলা পেচিয়ে, রুমাল দিয়ে মুখ চেপে ধরে ভিকটিম শহিদুলকে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে গলা কেটে নিথর দেহ থেকে শহিদুলের মাথা আলাদা করে ফেলা হয়।
উক্ত মামলায় বিচার শেষে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মানিকগঞ্জ গত ০৫/১২/২০২১ খ্রিঃ তারিখ উক্ত আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ৫,০০০/- টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ০২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। উক্ত মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই উক্ত আসামী পলাতক ছিল। উক্ত আসামী গ্রেফতার এড়ানোর জন্য নিজের নাম, পিতার নাম, মাতার নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে আপন মামাতো ভাইয়ের নাম, পিতার নাম ও মাতার নাম ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দীর্ঘদিন যাবৎ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থান করে আত্মগোপনে ছিল। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর এলাকায় উক্ত আসামী মামুনুর হোসেন, পিতা- রহম আলী নামে নিজেকে পরিচয় প্রদান করে এবং মামাতো ভাইয়ের সার্টিফিকেট ব্যবহার করে একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকুরী গ্রহণ করে বসবাস করে আসছিল।

উক্ত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করার নিমিত্তে নাগরপুর থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *