
পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ডেনিমের ক্ষেত্রে চীনকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এখন প্রথম অবস্থানে। পোশাক খাতে অগ্রগতি ধরে রাখতে রূপকল্প ঘোষণা করেছে বিজিএমইএ। এই রুপকল্পে নির্ধারিত ২০ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে পোশাক খাত টেকসই পোশাক শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংগঠনটির নেতারা।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন— সম্প্রতি সরকার বেনাপোলের পাশাপাশি ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা কাষ্টমস স্টেশনের মাধ্যমে সুতা আমদানির ক্ষেত্রে পার্শিয়াল শিপমেন্টের (আংশিক চালান) জটিলতা নিরসন করে আদেশ জারি করেছে। এতে করে শতভাগ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি করতে পারবে। ফলে দ্রুততার সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পাদন করা যাবে। সরকারের এই পদক্ষেপ শিল্পকে আরও গতিশীল করবে। তবে পূর্ন সক্ষমতা ব্যবহার করে কারখানা চালানোর মতো কোন অর্ডার এই মুহুর্তে নেই। তাই এ সুফলগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ সারা বিশ্বেই দেখা দিয়েছে মূল্যস্ফীতি। সেসব দেশের মানুষও কমিয়ে দিয়েছে কেনাকাটা। তাই পোশাকের অর্ডার কমিয়ে দিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন সময় গ্যাসের দাম বাড়ায় ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টের গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হবে। বৃহৎ শিল্পের ক্ষেত্রে এই দাম ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিল্পের ব্যয় বৃদ্ধির এই ভার বহনের সক্ষমতা নেই বলে জানা তারা।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, গত দেড় বছরে সুতার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৬২ শতাংষ, কন্টেইনার ভাড়া বেড়েছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ শতাংশ, ডাইস ও ক্যামিকেলের খরচ বৃদ্ধি ৬০শতাংশ, মজুরি বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত ৫ বছরে পোশাক শিল্পে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোভিডের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা পরিচালনায় খরচ আরও বেড়েছে। তার উপর পোশাক কারখানাগুলোতে কার্যাদেশ একেবারেই নেই। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ তৈরি পোশাক শিল্পে উৎসে কর যা এ বছর ১ শতাংশ করা হয়েছে, তা আগের বছরের মত রাখলে উৎপাদন ব্যয় কমবে। পাশাপাশি শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়বে, কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে এবং রপ্তানি বাড়বে, যা বৈদেশিক রিজার্ভে অবদান রাখবে।