।। মোঃ সিরাজুল মনির।।

দক্ষিণ এশিয়া এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক গুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে অনেক বছর ধরে। হিসাব করতে গেলে অন্য ১০ টি ব্যাংক একসাথে করলেও এর সমান হবে বলে আমার মনে হয় না। দেশের এক নাম্বার হিসাবে থাকা এ ব্যাংকটি দেউলিয়া হয়ে যাবে জনগণের টাকা নিয়ে এমন চিন্তা ভাবনা গত এক মাস ধরে সাধারণ মানুষের ভেতরে একটি ধারনার জন্ম দিয়েছে কিছু মিডিয়ার বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার এর মধ্যদিয়ে।
আমার এবং দেশের অর্থনীতিবীদসহ সকল পর্যায়ের মতে বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা সবচাইতে বেশি। দেশের অন্যান্য ব্যাংকগুলো এসময় ডলার সংকটের কথা বলে এলসি বন্ধ করে দিয়েছে এতে ছোট মাঝারি এবং বড় ব্যবসায়ীরা যারা দেশের বাইরে থেকে আমদানি নির্ভর তারা হতাশাজনক ভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় একমাত্র ইসলামী ব্যাংক ঝুকির মধ্যে থেকেও কিছু সংখ্যক এলসি করার সাহস দেখানোর কারণে দেশের বাইরে থেকে চিনি চাল ডাল তেল এসব পণ্য আসতেছে বলেই সাধারণ মানুষ এসব পণ্য বাজারে পাচ্ছেন।
যদিও চাহিদা অনুযায়ী সকল পণ্য আমদানি করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী এ অল্প আমদানি করা পণ্য কেও কারসাজি করে অধিক মূল্য নির্ধারণ করে।
আমার জানামতে রিক্সাচালক থেকে শুরু করে কোটিপতি ব্যবসায়ীসহ সকল ধর্মের গ্রাহক রয়েছে ইসলামী ব্যাংকে। পুরনো শাখা গুলোতে দেখা যায় ৫০ হাজারের অধিক গ্রাহক নিয়ে শাখা পরিচালিত হচ্ছে। যা দেশের ব্যাংকিং জগতে ইতিহাস হয়ে আছে। দেশের প্রতিটি উন্নয়ন কাজের সাথে সবসময় ইসলামী ব্যাংক জড়িয়ে থাকে। সরকারের পাশাপাশি এ ব্যাংক উন্নয়ন ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। অন্য ব্যাংক থাকলেও প্রবাসীরা ইসলামী ব্যাংকের উপর আস্হা রেখে তাদের কষ্টের টাকা ডিপোজিট করে এ ব্যাংকে। তাই রেমিট্যান্সের জন্য সেরা হয়ে উঠেছে ইসলামী ব্যাংক।
এখন কথা হলো, যারা ব্যাংক মালিকানার সাথে জড়িত তাদের অধিক ব্যবসা থাকতে পারে তাই ব্যাংকের টাকাও তারা ব্যবহার করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই টাকা ঘুরে আবার ব্যাংকে ফেরত দিতে ও তারা বাধ্য। গত এক মাসে আমি ব্যক্তিগত ভাবে একশর অধিক শাখা পরিদর্শন করে দেখেছি, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোন গ্রাহক টাকা ফেরত দিতে পারবেনা এ ধরনের কোন কথা বলতে শুনিনি। বরং খুশি মনে কর্তৃপক্ষ চেকের মাধ্যমে টাকা দিতে দেখেছি। সকল পর্যায়ের গ্রাহক এতে সন্তুষ্ট।
কিছু মিডিয়ার সংবাদ দেখে সাধারণ মানুষের ধারনা হলো কালকেই ব্যাংক দেউলিয়া হয় যাবে, যা স্বপ্নেও ভাবা যায় না। ইসলামী ব্যাংকের অসাধারণ সাফল্যে ইর্ষান্বিত হয়ে দেশের শীর্ষ কিছু ব্যবসায়ি বা একটি মহল অবৈধ টাকা প্রয়োগের মাধ্যমে মিডিয়ার কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এ সুন্দর প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করে যাচ্ছে। কিন্তু তাতে তারা সফল হতে দেখলাম না। প্রায় চারশর কাছাকাছি শাখা এবং কয়েক লক্ষ কর্মকর্তা কর্মচারি নিয়ে ইসলামী ব্যাংক সুন্দর ভাবে পরিচালিত হচ্ছে এ দেশে।
পরিশেষে ব্যাংক ধ্বংস করার চক্রান্তে জড়িতদের উদ্দেশ্যে বলব যদি দেশের অর্থনীতি দেশের মানুষের সার্বিক উপকার এবং দেশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেন।