ভালুকায় সরকারী জমি দখল করে নির্মাণ হচ্ছে একাধিক বহুতল ভবন

শেয়ার করুন :

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিগন্তবার্তা ডেক্স।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় সরকারী খাস ও বনবিভাগের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় দু’একটির ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হলেও অবৈধ দখলদারগন তাদের কার্যক্রম পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি এলাকার কাশরগড় মৌজার বনবিজ্ঞপ্তিত ৩৫০ নম্বর দাগে টিএম টেক্সটাইল ফ্যাক্টরীর উত্তরপাশ ঘেষে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে ৭ তলা ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মৃত মফিজ উদ্দন ভূইয়ার ছেলে মো: জজ মিয়া। ইতোমধ্যে ভবনটির একতলার ছাদ ঢালায়ের পর দ্বিতীয়তলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভূমি অফিস বার বার বাঁধা দেয়ার পরও এমনকি আইনী ব্যবস্থা নেয়ার পরও ভবনটির কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে পুরোদমে। তাছাড়া হবিরবাড়ি মৌজার ৯ নম্বর দাগে সিডষ্টোর উত্তর বাজারে কুয়েত প্রবাসী বাবুল ও তার ভাই বুলবুল বনবিভাগের তিন শতাংশ জমি দখলে নিয়ে দ্বিতলা বাড়ি নির্মাণ করছেন। একই মৌজার ১৯ নম্বর দাগে হারুন অর রশিদ বহুতল ভবন নির্মানসহ ৯ নম্বর ও ১৯ নম্বর দাগে একাধিক বহুতল ভবন নির্মান করা হচ্ছে।
এদিকে ধামশুর মৌজার ১০৪৬ নম্বর দাগে গাদুমিয়া মসজিদ মার্কেটের পাশে বনবিভাগের জমি দখলে নিয়ে রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েক ব্যক্তি একাধিক বাড়ি করেছেন। রফিকুল ইসলাম ৮ রুমের একটি বিশাল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তাছাড়া একই মৌজার ১১৫৭ নম্বর দাগে হাজিরবাজার এলাকায় ওয়াহিদুজ্জামান জীবন নামে এক ব্যক্তি তিনতলা বাড়ির একতলা নির্মান শেষ করেছেন। নির্মাণকালে বনবিভাগের লোকজন এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে গেলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। একাধিক অভিযোগে জানা যায়, বর্তমানে বনবিভাগের জমি দখলে নিয়ে বাসা-বাড়ি বা কোন স্থাপনা নির্মাণ শুরু করলে বনবিভাগের অসাধূ ব্যক্তিরা লোক ধরে নিয়ে তাদের নির্ধারীত দালালদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আটককৃত লোকদের ছাড়িয়ে নেয়া হয়ে থাকে।
কাশরগড় মৌজায় নির্মাণাধিন ভবনের মালিক জজ মিয়ার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এ ব্যাপারে তার বড় ভাই মমতাজ উদ্দিন জানান, তাদের কাগজপত্র সব ঠিক রয়েছে। ভূমি অফিস কর্তৃক তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়টি জানা নেই বলে তিনি জানান।
হবিরবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জীবন কুমার বিশ^াস জানান, কাশরগড় মৌজার এক নম্বর খতিয়ানের জমি দখলে নিয়ে জজ মিয়া নামে জনৈক ব্যক্তি বহুতল নির্মাণ করায়, তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ি বিট কর্মকর্তা আবু হাশেম চৌধুরী জানাান, কাশরগড় মৌজার ৩৫০ নম্বর দাগে মোট জমি রয়েছে, ৫৪ একর ৮২ শতাংশ। তার মাঝে বনবিভাগের আছে, ১৫ একর। তাছাড়া ওই দাগে এক নম্বর (খাস) খতিয়ানের জমিও রয়েছে। নির্মানাধিন বাড়ির মালিকের ডিমারগেশন রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন, তবে খোঁজ নিয়ে বনবিভাগের জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *