ভালুকা উপ-কর অফিসে দাতাদের কাছে ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ

শেয়ার করুন :

স্টাফ রিপোর্টার, দিগন্তবার্তা ডেক্স।।
ময়মনসিংহ কর অঞ্চলের সার্কেল ১৭ (ভালুকা) অফিসে কর প্রদানকারীদের কাছে ঘুষ দাবি এবং ঘুষ নাদিলে নানাভাবে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কর দিতে আসা মো. মিজানুর রহমান মন্ডল নামে এক ব্যক্তি ওই অভিযোগটি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ কর অঞ্চলের সার্কেল ১৭ (ভালুকা) অফিসে কর দিতে এসে কর দাতাগণকে হরহামেশাই ঘুষ দাবির সম্মুখিন এবং ঘুষ প্রদান না করলে নানাভাবে হয়রানীর শিকার হতে হয়। সম্প্রতি, পাশের ত্রিশাল উপজেলা থেকে কর দিতে আসা মো. মিজানুর রহমান মন্ডল জানান, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার ভগ্নিপতি গোলাম ফারুখ বুলবুলের মুদি দোকানের প্রথম কর দেয়ার জন্য গত জুন মাসে তিনি ময়মনসিংহ কর অঞ্চলের সার্কেল ১৭ (ভালুকা) অফিসে আসেন। তখন ওই অফিসের জনৈক কর্মচারী তার কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করলে তিনি তা প্রদান করেন। তবে, ১৫ হাজার টাকা নিয়ে তাকে তিন হাজার ১২০ টাকার রশিদ দেয়া হয়। ওই সময় তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে, ৩০ নভেম্বর তিনি একই দোকানের ২০২২/২০২৩ইং অর্থ বছরের কর দিতে এলে তার কাছে একজন কর্মচারী ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। তখন তিনি ওই কর্মচারীর কাছে জানতে চান, ৭ হাজার টাকা দিলে তাকে কতো টাকার রশিদ দেয়া হবে। জবাবে, ওই কর্মচারী তাকে জানান,  তিন হাজার ১২০ টাকা। পরে, এনিয়ে দু’জনের মাঝে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পরে, তাকে কর দেয়া জন্য একটি ফরম ধরিয়ে দিয়ে তা পুরন করে আনতে বলা হয়। পরে, তিনি একজন আইনজীবির মাধ্যমে ওই ফরম পুরন করে অফিসে জমা দিলে ওই কর্মচারী ফরম পুরন সঠিক হয়নি উল্লেখ করে তাকে নানাভাবে হয়রাণি শুরু করেন। এদিকে, ফাইলের কাজ সম্পন্ন হয়নি মর্মে লিখিত চাইলে ওই ব্যক্তি তার (করদাতা) প্রতি বিষণ ক্ষীপ্ত হন এবং অফিসের কয়েকজন তার উপর চড়াও হন। এর পর অন্য একজন এসে জানান, ফরম পুরন ঠিক আছে। কিন্তু, দ্বিতীয় ব্যক্তিও তার কাছে  এক হাজার ২০০ টাকা দাবি করেন এবং ওই টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সার্টিফিকেট দিবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। পরে, তিনি জানাতে পারেন ৭ হাজার টাকা দাবিকারী ব্যক্তি ওই অফিসের অফিস সহকারী হাবিবুর রহমান। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক করদাতা জানান, ময়মনসিংহ কর অঞ্চলের সার্কেল ১৭ (ভালুকা) অফিসে কর দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানী শিকার হতে হয়। কিন্তু, পুনঃরায় অধিকতর হয়রানির আশংকায় কেউ মুখ খুলতে রাজি হন না। তাদের মতে, স্বেচ্ছায় কর দিতে এসে হয়রানির শিকার হলে সাধারণ মানুষ কর দিতে আগ্রহ হরাবে।
অফিস সহকারী হাবিবুর রহমান জানান,  তিনি শুনেছেন, অফিস সহায়ক কামাল হোসেন কারদিতে আসা জনৈক ব্যক্তির কাছে এক হাজার ২০০ টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট নিতে বলেছিলেন। তিনি কারো কাছে কোনো টাকা দাবি করেননি বলে জানান। তবে অফিস সহায়ক কামাল হোসেন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি যেহেতু অফিস সহকারী হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তাই তিনি নিজেকে বাঁচানোর জন্য অভিযোগটি আমার গাড়ে ফেলার চেষ্টা করছেন।
ময়মনসিংহ কর অঞ্চলের সার্কেল-১৭ (ভালুকা) উপ কর কমিশনার কার্যালয়ের সহকারী কর কমিশনার মো. জাবির সাম্স জানান, মাস কয়েক আগে তিনি এই অফিসে যোগদান করেছেন। বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. আবিদুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগপত্রটি এখনো আমার হাতে আসেনি। আসলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *