গাজীপুরে আসামীকে রিমান্ডে নিয়ে থানায় জোরপূর্বক ৫ কোটি টাকার চেকে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ

শেয়ার করুন :

গাজীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক।।
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানায় রিমান্ডে থাকা আসামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পাঁচ কোটি টাকার চেকে স্বাক্ষর নেয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামীপক্ষের আইনজীবী বিষয়টি লিখিতভাব আদালতের নজরেও আনেন।
জানা গেছে, মহানগরের কুনিয়া তারগাছ এলাকায় আনোয়ার শিল্প গোষ্ঠীর আনোয়ার স্টিল কারখানার সাবেক ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৩৩ লাখ ২২ হাজার ২৫১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ২ নভেম্বর গাছা থানায় মামলা করে কোম্পানী কর্তপক্ষ। মামলায় আনিসুর রহমানের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও শ্যালিকাকেও আসামী করা হয়। গাছা থানা পুলিশ গত ১০ নভেম্বর মামলার প্রধান আসামী আনিসুর রহমান ও তার শ্যালিকা ৩ নম্বর আসামী এÍনুর আক্তারক গ্রেফতার করে।
আনিসুর রহমানের ছোট ভাই আবুল কাশেম বলেন, আনিসুর রহমানকে দুই দফায় রিমান্ডে এনে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সর্বশেষ দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের সময় গত ১৪ নভেম্বর রাতে গাছা থানা পুলিশ আনিসুর রহমানকে সাথে নিয়ে তার টঙ্গীর পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ উত্তর পাড়ার বাসায় তল্লাশি চালায়। এসময় পুলিশ ঘরের আলমিরাসহ যাবতীয় আসবাবপত্র তল্লাশি করে জায়গা জমির সকল কাগজপত্র ও সিটি ব্যাংকের চেক বই থানায় নিয়ে যায়। পরে থানায় ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পৃথক ৫টি চেকে আনিসরের স্বাক্ষর নেয়। প্রতি চেকে এক কোটি টাকা করে লিখে নেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, আমার ভাইকে রিমান্ডে নিয়ে কোম্পানীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের উপস্থিতিতেই চেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়। আমার ভাই কোনো দুর্নীতি বা কোম্পানীর অর্থ আত্মসাত করেননি। যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আমার ভাইয়ের যে সম্পদের বিবরণ দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অভিযোগে বর্ণিত সম্পদের কোনা অস্তিত্বই নেই। এমনকি আমাদের সব ভাইদের সম্পত্তি একত্রে করলেও মামলায় বর্ণিত অভিযোগের কিঞ্চিত পরিমাণও হবে না।
এদিকে এব্যাপারে আসামীপক্ষের আইনজীবী মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, থানায় রিমান্ডে নিয়ে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নেয়ার বিষয়টি আমরা আদালতকে অবহিত করি। বিজ্ঞ আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শোকজ করেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা চেকে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জবাব দাখিল করলে আদালত আমাদের অভিযোগ খারিজ করে দেন। ‘সাধারণতঃ বিচারাধীন বিষয় আসামীপক্ষের কোনা অভিযোগ থাকলে অনেক সময় তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখা বা আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুযোগ থাকে না’ – মন্তব্য করেন আসামীপক্ষের এ আইনজীবী।
মামলার বাদী আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এজিএম (এডমিন এন্ড সিকিউরিটি) মো. ইউনুস আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দুঃখিত আমি কিছুই জানি না, আমি মামলার বাদী, আমি মামলা করেছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী গ্রেফতার করেছেন, আদালতে পাঠিয়েছেন, রিমান্ডে নিয়েছেন, আমি শুধু বাদী হিসাবে এতটুকুই জানি।’
এব্যাপার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাছা থানার এসআই ইহসানুল হক বলেন, থানায় রিমান্ডে এনে আসামীর কাছ থেকে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নেয়ার কোনা সুযোগ নেই। বিচার কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ আনা হচ্ছে।
গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, এটি একেবারে অবান্তর মিথ্যে কথা। আসামীর এ মিথ্যা দাবি আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। আমি যতটুকু জানি, মামলা হওয়ার পর উনি একটা পর্যায়ে আপস করার চেষ্টা করছিল। তখন হয়তো ব্যাংকচেক দিয়ে থাকতে পারেন। আদালতে আমরা সাক্ষ্য প্রমাণ দেওয়ার পর আদালত তার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন।
#


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *