গাজীপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক।।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সাথে টঙ্গী বিসিক মালিক সমিতির একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) টঙ্গী শিল্প এলাকা মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি মুক্ত রাখতে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সমঝোতা হয়। স্থানীয় টাম্পাকো ফয়েলস কারখানা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এ সমঝোতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএমপি কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে জন সম্পৃক্ততা দরকার। আমরা মাদক নির্মুলে গডফাদারদের ধরতে চাই। গডফাদারদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। তারা যতই শক্তিশালী হোক, কোনো ছাড় নেই। মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছি। এই বিসিকে কোনো মাদকের কারবার চলবে না।’
টঙ্গী বিসিক মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ তানভীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, অনন্ত শিল্প গোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক খান, টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম, জিএমপি উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ, মো. মাহবুব-উ-জামান, মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএমপি কমিশনার শিল্পোদ্যোক্তাদেরকে দেশের সূর্য সন্তান আখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে শিল্প কারখানার পরিবহণ চালক-শ্রমিকেরও গুরত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। গুটিকয়েক মন্দ লোক মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এতে শুধু ব্যক্তি ও পরিবার নয়, সমাজ তথা দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমঝোতা স্বাক্ষরের মাধ্যমে মাদকের সাথে জড়িত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা মধ্যমায়ের দেশ হয়েছি, আমাদের সেই মানদন্ড বজায় রাখতে হবে। শুধু পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। সমাজের প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসে এ ব্যাধীকে দূর করতে হবে। সেই লক্ষ্যে এ সমঝোতা স্বাক্ষর ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এ সমঝোতা স্মারকের আলোকে টঙ্গী বিসিককে মাদকমুক্ত করতে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।