ভালুকায় লে-অফকৃত কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন :

আসাদুজ্জামান ভালুকা (ময়মনসিংহ)।।
ময়মনসিংহের ভালুকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে লে-অফকৃত এক্সিকিউটিভ এ্যাটায়ার লিমিটেডের শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। কারখানাটিকে গত ৯ নভেম্বর লে-অফ ঘোষণা করার সময় ১৫ নভেম্বর বকেয়া বেতন দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকরা বেতনের জন্য কারখানার গেইটে গেলে আগামী ২৫ নভেম্বর বেতন দেয়ার নোটিশ দেখতে পেয়ে শ্রমিকরা বিক্ষুব্দ হয়ে প্রায় দুই ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শিল্পপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আশ^াস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এক্সিকিউটিভ এ্যাটায়ার লিমিটেড নামে কারখানাটিতে  সঠিক সময়ে পোষাক রপ্তানী না হওয়া, বায়ার কর্তৃক কার্যাদেশ প্রত্যাহার এবং নতুন কার্যাদেশ না দেয়ার কারনে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রচুর লোকসান ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়। অপরদিকে এ সকল কারনে ব্যাংক কোন আর্থিক সহযোগিতা না করার কারনে কারখানাটি গত ৯ নভেম্বর থেকে লে-অফ ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিকরা জানান, ওই ফ্যাক্টরীতে তারা প্রায় সাড়ে ৩০০ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। গত ৯ নভেম্বর পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এমনকি বকেয়া বেতন ও অভারটাইমের টাকা না দিয়েই কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করে। ওইদিন জানিয়ে দেয়া হয়েছিলো, ১৫ নভেম্বর বকেয়া পরিশোধসহ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১৬ ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের লে-অফ সুবিধা প্রদান করা হবে। কিন্তু মঙ্গলবার তারা কারখানায় গেলে দেখতে পান আবারো নোটিশ টানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১০ টায় ঢাকাস্থ বিজিএমইএ এর কার্যালয় (বিজিএমএ কমপ্লেক্স, বাড়ি ৭/৭এ, বøক-এইচ-১, সেক্টর-১৭, উত্তরা, ঢাকা) থেকে দাবি পরিশোধ করার সিদ্ধন্ত নেয়া হয়েছে।
শ্রমিকরা আরো জানান, তারা সাড়ে ৩০০ শ্রমিক ঢাকা থেকে বেতন আনতে গেলে পরিবহণসহ নানা সমস্যা রয়েছে। তাই তারা কারখানা থেকেই বেতন নিতে চান। কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ নোটিশের বাহিরে কিছু করার নেই বলে সাফ জানিয়ে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। কিন্তু অবরোধ চলাকালে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন ও কারখানার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা তাদের মারধর করে। এতে তাদের বেশ কিছু শ্রমিক আহত হন। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন চলাচলরত শত শত যানবাহনের যাত্রীরা।
কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার মোহাম্মদ ইমন বলেন, ৯ নভেম্বর কারখানাটি লে-অফ ঘোষণার সময় নোটিশ দেয়া হয়েছিলো যে, শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১৬ ধারা অনুযায়ী মঙ্গলবার শ্রমিকদের লে-অফ সুবিধাসহ বকেয়া ও অভারটাইমের টাকা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু ওইদিনই শ্রমকিরা বেতন প্রাপ্তির জন্য বিজিএমইএ’র কাছে লিখিত অভিযোগ করে। পরে বিজিএমইএ সিদ্ধান্ত নেয়, বেতন ওই কার্যালয় থেকে পরিশোধ করা হবে এবং আমরা তাদের দেয়া নোটিশটি গেইটে টানানো হয়। কিন্তু তারা ওই নোটিশ না মেনে মহাসড়ক অবরোধ করে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ শ্রমিকদের মারধরের কথা অস্বীকারা করে বলেন, মহাসড়ক অবরোধের কথা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগামী ২৫ নভেম্বর ফ্যাক্টরী থেকেই বেতন দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, শ্রমিকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করার কারণে তার ছেলেদের তিনি চরথাপ্পর দিয়েছেন।
ময়মনসিংহ শিল্প জোন ৫ এর এএসপি কাজী সাইদুর রহমান শ্রমিকদের উপর হামলা কথা অস্বীকার করে জানান, এক্সিকিউটিভ এ্যাটায়ার কারখানটি গত ৯ নভেম্বর লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছিলো। ওইদিন নোটিশে মঙ্গলবার বেতন দেয়া কথা ছিলো। কিন্তু তারিখ আবারো পেছানোর কারণে এবং ঢাকা বিজিএমইএ’র কার্যালয় থেকে বেতন আনার সিদ্ধান্ত হওয়ায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আশ^াস দেয়া হলে তারা অবরোধ তুলে নেয়। বর্তমানে কারখানা এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *